নদী ক্যাম্প উদ্যাপন উপলক্ষে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীতে ডিঙ্গি নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিস্তা নদী রক্ষা কমিটি ও বার্ণিঘাট এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) উপজেলার বার্ণিঘাট এলাকায় এ প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিফাইনালকে ঘিরে সকাল থেকেই বার্ণিঘাট এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নির্ধারিত সময়ে তিস্তা নদীর বুকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ডিঙ্গি নৌকাগুলো সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেয়। বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঝিরা বৈঠা হাতে নৌকা নিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে চলেন। প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে নদীর দুই পাড়ে মানুষের ঢল নামে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ইয়াসিন আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আয়োজক কমিটির সদস্য, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।
নৌকা বাইচ দেখতে তিস্তা নদীর দুই পাড়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের সমাগম ঘটে। কেউ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে, আবার কেউ নৌকা ও আশপাশের উঁচু স্থানে অবস্থান নিয়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। প্রতিটি নৌকা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীরা করতালি ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে পুরো বার্ণিঘাট এলাকায় আনন্দ-উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ একসময় নদীমাতৃক বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন ছিল। আধুনিকতার প্রভাবে এ ধরনের আয়োজন কমে গেলেও তিস্তা নদীতে নৌকা বাইচের আয়োজন স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন দেখতে পেয়ে তারা আনন্দিত।
আয়োজকরা জানান, তিস্তা নদীর ঐতিহ্য ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা, নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যকে তুলে ধরা এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি নদী রক্ষা ও তিস্তা নদীকে ঘিরে জনসচেতনতা বাড়াতেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেমিফাইনালের পর প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল ঘিরে আরও বড় পরিসরে দর্শনার্থীদের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজক ও স্থানীয়রা।
আজকালের খবর/রাশেদুল মিলন
