রাজধানীর উত্তরায় এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আয়োজনে ‘স্টেম ফেস্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা ও প্রযুক্তিনির্ভর নানা প্রদর্শনী মুগ্ধ করেছে বিচারক ও দর্শনার্থীদের।
আজ শনিবার স্কুলটির প্রধান ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ উৎসবে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও প্রকল্প প্রদর্শনীতে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা।
সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ উৎসবে ছিল রুবিকস কিউব প্রতিযোগিতা, গণিত অলিম্পিয়াড, বিজ্ঞান কুইজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রকল্প প্রদর্শনী। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিশ্লেষণী ক্ষমতা, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান তুলে ধরার সুযোগ পায়।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের তৈরি উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রদর্শনী। এতে রোবোটিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রকৌশল ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের নানা বিষয় স্থান পায়। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে ছিল রোবোটিক হাইড্রোলিক আর্ম, ম্যাগলেভ ট্রেন, ভয়েস কন্ট্রোলড কার, ক্লিনিং রোবট, ফুটস্টেপ পাওয়ার জেনারেটর, রেইন সেন্সর, ভূমিকম্প সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, লেজার নিরাপত্তাব্যবস্থা, নদী পরিষ্কারের নৌযান, কার্বন নিঃসরণ পরিশোধন, হাইড্রোপনিকস ও হেমোডায়ালাইসিস প্রকল্প।
শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক ধারণা, কার্যপদ্ধতি ও বাস্তব জীবনে এর প্রয়োগযোগ্যতা বিচারক ও দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরে। প্রকল্প মূল্যায়নে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, নকশা, উপস্থাপনা, বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন ও বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এনামুল হক। বিচারক হিসেবে আরও ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল সাবা, এভেরোজ বারিধারার অধ্যক্ষ ড. আব্দুল বাশির এবং এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বারিধারার উপাধ্যক্ষ তাসলিমা খাতুন।
ড. মো. এনামুল হক বলেন, অল্প বয়সেই শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক বিষয় সম্পর্কে ধারণা, উপস্থাপনার দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। সঠিক পরিচর্যা ও সুযোগ পেলে তাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এভেরোজ উত্তরা ও এভেরোজ বারিধারার চেয়ারম্যান গোলাম মুস্তফা বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি প্রশ্ন করতে, নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান খুঁজতে শেখে, সে লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষার বাইরে এনে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরি করাই স্টেম ফেস্টের মূল উদ্দেশ্য। এভেরোজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও একাডেমিক উপদেষ্টা ফারহান আলীম জানান, ক্যামব্রিজ কারিকুলামের পাশাপাশি ইসলামি শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারিক চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনা বিকাশের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
