প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই সিরিজ খুইয়েছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। শেষ ম্যাচ জিতে সম্মান রক্ষার লক্ষ্য থাকলেও তা পূরণ হয়নি। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে অস্ট্রেলিয়া নারী দল।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ব্রিসবেনের অ্যালান বর্ডার ফিল্ডে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৫ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে মাত্র ২২.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ১৬৪ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
১৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জর্জিয়া ভলকে ১১ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন সুলতানা খাতুন। এরপর নিজের শততম ওয়ানডে খেলতে নামা বেথ মুনিকে ২১ রানে বোল্ড করেন দিশা বিশ্বাস। ফলে ৩৮ রানেই দুই ওপেনারকে হারায় স্বাগতিকরা। তবে এরপর আর কোনো উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ১৩৭ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন এলিস পেরি ও অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড।
আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন সাদারল্যান্ড। মাত্র ৫২ বলে ১২টি চারের সাহায্যে ৭৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। অন্য প্রান্তে পেরি ৬৪ বলে ৮টি চারে অপরাজিত ৬৫ রান করেন। দুই ব্যাটারের দাপুটে পারফরম্যান্সে মাত্র ২২.৪ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসার মেগান শাটের বোলিং তোপে মাত্র ১৮ রানেই ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা। মুর্শিদা খাতুন ১, শারমিন সুলতানা ৬ এবং অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ৩ রান করে ফিরে যান। এরপর আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সোবহানা মোস্তারীকেও ৯ রানে ফেরান শাট। এতে ৪৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তার। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ৫৪ রানের জুটি বাংলাদেশকে প্রাথমিক বিপর্যয় থেকে কিছুটা সামাল দেয়। ৯৩ বলে ৮টি চারে ৫০ রান করে এলিস পেরির বলে আউট হন শারমিন।
অন্য প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান স্বর্ণা। ৭১ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৫৪ রান করেন তিনি। শেষদিকে দিশা বিশ্বাসের অপরাজিত ১৩ রানে ৪৯.৫ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন মেগান শাট। ১০ ওভার বল করে পাঁচটি মেডেনসহ মাত্র ১৬ রান দিয়ে চার উইকেট নেন তিনি। এ ছাড়া অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড ও অ্যাশলি গার্ডনার দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
দুর্দান্ত বোলিংয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরা ও সিরিজসেরার পুরস্কার জিতেছেন শাট। আর তিন ম্যাচের সিরিজে কোনো জয় না পাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ নারী দল।
The post অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ নারী দল appeared first on ভোরের চেতনা.
