আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পছবি: X
Published on
:
2 min read
ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক অভিযান শুরুর হুঁশিয়ারি দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ফ্লোরিডার একটি জনসভায় তিনি বলেন, ‘আমরা আর একবার ছোটখাটো এপিক ফিউরি শুরু করতে পারি।’ পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানও। আমেরিকা ও ইজ়রায়েল ফের হামলা চালালে পারস্য উপসাগরের নীচে থাকা ইন্টারনেটের কেবল কেটে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
সপ্তাহান্তেই ইরানের উপরে নতুন করে হামলা শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন আমেরিকান রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক। সাংবাদিক মারিও নওফালের সঙ্গে একটি পডকাস্টে তিনি বলেন, ‘সপ্তাহান্তে ইরানে হামলা হতে পারে। অবশ্যই হতে পারে।’ তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফ্লোরিডার জনসভায় ইরানে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আর একবার ছোটখাটো এপিক ফিউরি শুরু করতে পারি।’ উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল যে অভিযান শুরু করেছিল, তার নাম ছিল ‘এপিক ফিউরি’। তবে এই নিয়ে আর বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনেও দাবি করা হয়েছে, মিড টার্ম ইলেকশনের পরে নতুন করে ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকান সেনা আধিকারিকদের উদ্ধৃতি দিয়ে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো, পরমাণু কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানাগুলিকে নিশানা করা হতে পারে।
পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছে ইরানও। আমেরিকা ও ইজ়রায়েল নতুন করে হামলা চালালে পারস্য উপসাগরের নীচে থাকা ইন্টারনেটের কেবল কেটে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। রয়টার্সকে এই কথা জানিয়েছেন ইরানের নিরাপত্তা বিভাগের দুই আধিকারিক। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হরমুজ় প্রণালী এখনও পুরোপুরি শান্ত হয়নি। এর মধ্যে ফের যুদ্ধ শুরু হলে আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
এ দিন ইস্তানবুলে একটি বিশেষ বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, তুরস্ক, মিশর, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও ইতালির প্রতিনিধিরা। সেখানে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে দেন একাধিক দেশের বিদেশমন্ত্রীরা। তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ‘নতুন করে হামলা হলে উত্তেজনা বাড়বে।’ যুদ্ধ গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। একই সুর শোনা গিয়েছে ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোর বক্তব্যেও। তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
