উখিয়ায় র্যাবে কর্মরত ছিলেন সুমন মুন্সি। বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে চাকরিচ্যুত হন, কারাভোগও করেন। এরপর বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলে ভুয়া ‘এসআরবি’ পরিচয়ে একটি চক্র গড়ে তোলেন। চক্রটির সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ে জড়িত।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় সুমনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
তিনি জানান, চক্রটির সদস্য আব্বাস উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে সুমনকে তথ্য দিতেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সুমন ও তার সহযোগীরা অপহরণ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটার দিকে বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ির প্রেমবাজারে মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামের হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে অপহরণ করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, কালো পোশাকের ওপর ‘এসআরবি’ লেখা জ্যাকেট পরা কয়েকজন ব্যক্তি দোকানে প্রবেশ করে নিজেদের এসআরবি সদস্য পরিচয় দেন। তারা ব্যবসায়ীর যমজ ভাই মো. হোছাইনের ছবি দেখিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরে এহছানের দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে তাকে একটি অজ্ঞাত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন যানবাহনে স্থানান্তর করে তাকে কক্সবাজারের দিকে নেওয়া হয়।
অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর ওই দিন রাত ১১টা ৪০ মিনিট থেকে ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও দোকানের ব্যবস্থাপকের মুঠোফোনে বিভিন্ন ভিওআইপি নম্বর থেকে কল আসে। ফোনে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ীর ভাই মো. হোছাইমের এজাহারের ভিত্তিতে বাঁশখালী থানায় মামলা হয়। এরপর অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বাঁশখালী থানা-পুলিশ।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০ অক্টোবর কক্সবাজার সদর থানার বাস টার্মিনাল, বাংলাবাজার ও কোর্টবাজার এলাকা থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর চারটার দিকে টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ সংলগ্ন এলাকা থেকে এহছানকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার মিজানুর রহমান, উখিয়া উপজেলার জয়নাল উদ্দিন, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার মো. আব্বাস উদ্দিন, টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬-এর বাসিন্দা ছলিম ওরফে সেলিম এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার দেলোয়ার হোসেন।
অভিযানে অপহরণে ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, ‘এসআরবি’ লেখা পাঁচটি কালো জ্যাকেট, দুটি ভুয়া এসআরবি পরিচয়পত্র ও একটি হ্যান্ডকাফ জব্দ করা হয়।
পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, সুমন মুন্সির বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা ও অস্ত্র আইনে মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। জয়নাল উদ্দিন ওরফে জুনুর বিরুদ্ধে অপহরণ, চুরি ও ছিনতাইয়ের তিনটি মামলা রয়েছে। ছলিম ওরফে সেলিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দুটি এবং আব্বাস উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে।
তবে সুমন মুন্সিকে ঠিক কবে এবং কী কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচারিক অবস্থাও বিস্তারিত জানা যায়নি।
The post চাকরিচ্যুতির পর র্যাব সদস্যের অপহরণ চক্র appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
