ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সৌদি আরবে। শনিবার রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর সোমবারও দেশটিকে লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সোমবার সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশেই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই গত সপ্তাহ থেকে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে হুতিরা। এতে দেশটির বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন চলাকালেও রাজধানী রিয়াদের ফ্লাইট কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের প্রভাব কমাতে সৌদি আরবের সামরিক তৎপরতা নতুন করে জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী ওই অঞ্চলে কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করলেও অন্যান্য রণাঙ্গনে হুতিদের শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়ছে।
অন্যদিকে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা জোরদার করেছে সৌদি আরব। সোমবার ইয়েমেনের আল-জউফ প্রদেশেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের মধ্যেও সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের হামলা বন্ধের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি তেল স্থাপনাগুলোতে আরও বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়ে আসছে গোষ্ঠীটি।
এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত তেহরান।
এদিকে সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটির প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেছেন, সৌদি আরবের ওপর হামলা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। আঞ্চলিক যৌথ নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই হামলাকারীরা এমন তৎপরতা চালাচ্ছে।
এর আগে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় থাকার কথা জানান। তবে সোমবার পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো প্রত্যক্ষ সামরিক পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি।
চলমান উত্তেজনার মধ্যেও দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। সোমবার এক জ্বালানি সম্মেলনে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী যুবরাজ আবদুল আজিজ বিন সালমান জানান, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও জ্বালানি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও বিনিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
