প্রবাসীদের দেশে পাঠানো অর্থ ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা সরকার করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেছেন, “আমাদের কর্মসূচির মধ্যে আমরা চিন্তা করছি প্রবাসীদের জন্য আমরা এরকম বিশেষ আদালত গঠন করব, বিশেষ করে ডিভিশনাল হেড কোয়ার্টারে; যে আদালতগুলো শুধুমাত্র প্রবাসীদের যেকোনো ধরনের সংকট সমাধানের জন্য চেষ্টা করবে।
“যেকোনো ধরনের প্রবাসীর মামলা শুধুমাত্র ওই আদালতগুলো দেখতে পারবে, বিশেষায়িত আদালত।”
মঙ্গলবার ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সোনার মানুষ সম্মিলন’ অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন আসাদুজ্জামান। অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে শ্রমিকদের জন্য শ্রম আদালত থাকলেও প্রবাসীদের জন্য আলাদা আদালত নেই। বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর পর দেশে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সেই টাকা ফেরত চাওয়া কিংবা সম্পত্তি কেনার পর বিরোধ তৈরি হলে প্রবাসীদের দীর্ঘদিন মামলা চালাতে হয়।
এতে বিদেশে বসে বছরের পর বছর আইনজীবীদের পেছনে অর্থ ব্যয় করতে হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মামলা নিষ্পত্তির আগেই বাদীর মৃত্যু হয়, পরে তার ওয়ারিশরা মামলা চালিয়ে যান।
আসাদুজ্জামান জানান, প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আদালত গঠনে আইন প্রণয়ন এখন খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুততম সময়ে জনমত যাচাই শেষে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে প্রস্তাবটি আনা যায় কি না তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।
আমিরাতে ভিসা বাতিল প্রসঙ্গ
অভিবাসী শ্রমিক সংকটের পেছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের দায়ী করে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার ভিসা বাতিল হয়েছে। আরও অনেকের ভিসা নবায়নের বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।
এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এমন কিছু নথি জমা দেওয়া হচ্ছে, যেগুলোর সত্যতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সহজে যাচাই করা যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের সনদ জমা দেওয়া হচ্ছে।
এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান আসাদুজ্জামান।
অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসেছে।
প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার আইনি সহায়তা কর্মসূচি চালুর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রবাসীদের প্রাথমিক আইনি পরামর্শ দিতে লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
“আইনি পরামর্শের পাশাপাশি মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রবাসীরা হয়রানির শিকার কম হন।”
এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করতে রামরুর প্রতি আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।
শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য কমানোর তাগিদ
বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ‘অমানবিক কর্মপরিবেশ ও মজুরি বৈষম্যের’ বিষয়টি তুলে ধরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর নুরুল হক নুরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের সকালে বাথরুম ব্যবহারের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। এরপর কর্মস্থলে যেতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে সারাদিন কাজ শেষে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যায়। বাসায় ফিরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা ও রান্নার কাজও করতে হয় তাদের।
এত পরিশ্রমের পরও অন্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা অনেক ক্ষেত্রে কম মজুরি পান মন্তব্য করে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বৈষম্য কমানোর বিষয়ে আরও কাজ করা প্রয়োজন।
