চাকরির পেছনে না ছুটে ২০১৯ সালে নিজেই কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বরুনাগাঁও গ্রামে ছোট্ট পরিসরে পাপোশ তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছিলেন হুমায়ুন কবির। সেনুয়া নদীর তীরঘেঁষে গড়ে ওঠা এই কারখানায় শুরুতে নানা ঝড়ঝাপ্টা ও করোনার সময়ে ব্যবসা থমকে গেলেও হাল ছাড়েননি তিনি; পরবর্তীতে একটি বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় ঘুরে দাঁড়ানো এই উদ্যোক্তার উদ্যোগে আজ এলাকার প্রায় দুই শতাধিক নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেলাই মেশিনের খুটখাট শব্দে মুখর থাকে হুমায়ুন কবিরের কারখানা। সেখানে কারিগর নারীদের কেউ ব্যস্ত পাপোশ তৈরিতে, কেউ রশি বুনছেন, আবার কেউ করছেন রঙ ও ফিনিশিংয়ের কাজ। পালি কর্মসংস্থান ও ইএসডিওর প্রশিক্ষণ এবং তিন লাখ টাকা ঋণ সহায়তার হাত ধরে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে বর্তমানে ৪৮ জন নারী নিয়মিত এবং প্রায় ১৫০ জন নারী খণ্ডকালীন ভিত্তিতে কাজ করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন অনেকে, আবার কেউ মাসে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত উপার্জন করে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা এনেছেন পরিবারে।
কারখানার নারী শ্রমিক শাম্মী আক্তার ও ফাতেমা বেগম জানান, আগে ঘরে বসে অলস সময় কাটালেও এখন এখানে কাজ করে তারা নিজেদের পাশাপাশি সংসারেও আর্থিক সহযোগিতা করতে পারছেন। এ বিষয়ে ইএসডিওর রেইজ প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা তাবরেদী রায় বলেন, ঋণ সহায়তা পাওয়ার পরই মূলত হুমায়ুন কবির নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হন; মূলত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে মানুষকে যুক্ত করা এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
হুমায়ুন কবির বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও মানসিক জোর থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা পেরিয়ে সফল হওয়া সম্ভব। বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান এ প্রসঙ্গে জানান, সঠিক প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহযোগিতা, আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা এবং নিজের চেষ্টার সমন্বয়ে হুমায়ুন কবিরের মতো উদ্যোক্তারা আজ সমাজে আত্মকর্মসংস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। হস্তশিল্প ও কারুপণ্য সংস্থার পরিচালক চন্দনা ঘোষও অভিমত প্রকাশ করেন যে, নিষ্ঠার সঙ্গে লেগে থাকলে যেকোনো শিল্পকর্ম মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
