হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে দালালচক্রের হাতে প্রতারণা, আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানির শিকার হওয়ার দিন শেষ করতে চায় সরকার। হাসপাতালগুলোকে দালালমুক্ত করে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে বিভিন্ন হাসপাতালে দালালদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। এসব সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে হাসপাতালের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। হাসপাতালে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ন্ত্রণেও সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রোগীদের ভোগান্তি কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, চিকিৎসাসেবা নিতে এসে কেউ যেন দালালের খপ্পরে পড়ে আর্থিক ক্ষতি বা অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
হাসপাতালের জনবল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় কর্মীর অভাবে কিছু ক্ষেত্রে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এ সংকট নিরসনে বিধিবদ্ধ নীতিমালা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান প্রয়োজন। রোগীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই হাসপাতালগুলোতে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে শুধু অভিযান চালানো যথেষ্ট নয়। নিয়মিত নজরদারি, রোগীদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তি, দালালচক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়া থেকে শুরু করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ভর্তি ও ছাড়পত্র পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে রোগীদের হয়রানি কমবে এবং হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।
মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবীর, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি, দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলালসহ হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
