পুজো আসতেই নতুন ফ্যাশন, নতুন রকম প্রসাধনীর কদর বাড়ে। প্রতি বারই পোশাকে বা রূপচর্চায় নতুন কোনও ধারা প্রাধান্য পায়। কমবয়সিরাও স্বাভাবিক ভাবেই সেই ধারায় গা ভাসান। ইদানীং অবশ্য শুধু কমবয়সিরা নন, নতুন যা কিছু তাকে আপন করে নিচ্ছেন মধ্যবয়সিরাও। তার মধ্যে একটি জিনিস নজর কেড়েছে, তা হল আইভি প্যাচ। কমবয়সিদের অনেকেই বাহুতে বা কব্জিতে এই জিনিসটি লাগিয়ে ঘুরছেন। দেখতে অনেকটা স্যালাইন দেওয়ার মতো ছোট্ট একটি প্যাচ বা ব্যান্ডেজ। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে, তবে কি আইভি ড্রিপ বা স্যালাইন লাগিয়েই রাস্তাঘাটে বেরোচ্ছেন লোকজন? এটি লাগিয়ে রাখা মানেই কি, শরীরে অবিরাম জল বা খনিজ লবণ ঢুকতে থাকবে?
বিষয়টি তা নয়। উৎসবের মরসুমে রাত জেগে ঠাকুর দেখা, টানা হাঁটাহাঁটি, খাওয়াদাওয়ায় অনিয়মের কারণে শরীরে জলশূন্যতা দেখা দেওয়া বা ক্লান্ত হয়ে পড়া— এই সমস্যাগুলি থেকে বাঁচতেই নতুন এক ধারা খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। হাতে ঠিক আইভি ড্রিপের মতোই প্যাচ লাগিয়ে রাখা। তবে এটি কোনও আইভি ড্রিপ নয়। হাতে স্যালাইনের ক্যানুলা বা সুচ ফুটিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো অসম্ভব ব্যাপার। তা নিরাপদও নয়। তাই আইভি ড্রিপের মতো দেখতে যে জিনিসটি হাতে দেখা যাচ্ছে, সেটি আসলে ‘ট্রান্সডার্মাল ভিটামিন অ্যান্ড এনার্জি প্যাচ’। দূর থেকে দেখতে স্যালাইন প্যাচের মতো মনে হলেও এটি আসলে স্টিকারের মতো একটি জিনিস। হাতে চ্যানেল করার বা সুচ ফোটানোর কোনও প্রয়োজনই নেই এতে।
ট্রান্সডার্মাল ভিটামিন প্যাচ।
ট্রান্সডার্মাল প্যাচ আসলে কী?
পলিমার ম্যাট্রিক্স, যাতে ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান পুরে দেওয়া হয়, তাতে জেলের মতো উপাদান থাকে, যার মধ্যেই প্রয়োজনীয় ভিটামিন দেওয়া থাকে। সেটি হাতে, পেটে বা শরীরের যে কোনও জায়গায় লাগিয়ে নিলে তা থেকে ভিটামিন ও খনিজ ত্বকের রন্ধ্রের মধ্যে দিয়ে সরাসরি শরীরে ঢুকে রক্তে গিয়ে মিশে যাবে। তার মানে এই নয় যে, এই প্যাচ লাগালেই জলশূন্যতার সমস্যা মিটবে বা জলের ঘাটতি হবে না। কেবলমাত্র সাময়িক ভাবে শরীর ঠিক রাখতে এবং চাঙ্গা থাকত, এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
আসলে কোনও এনার্জি ড্রিঙ্ক বা সাপ্লিমেন্ট ট্যাবলেট খেলে তা প্রথমে পাকস্থলীতে যায় এবং হজম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীরে শোষিত হয়, যাতে অনেকটাই সময় লাগে। কিন্তু ট্রান্সডার্মাল প্যাচ সরাসরি রক্তে ভিটামিন ও ইলেকট্রোলাইট পৌঁছে দেয়। ফলে কাজ হয় দ্রুত। এই ধরনের প্যাচ নিরাপদ, জলরোধী এবং হাতে লাগিয়ে রাখলে ব্যথাও হয় না। তবে ছোটদের বা বয়স্কদের এই প্যাচ লাগানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কাদের সুবিধা বেশি?
রাত জেগে যাঁরা ঠাকুর দেখবেন বা প্রচুর হাঁটাহাঁটি করার পরিকল্পনা যাঁদের রয়েছে, তাঁরা এটি লাগিয়ে রাখতে পারেন।
এই ধরনের প্যাচ নিরাপদ, জলরোধী এবং হাতে লাগিয়ে রাখলে ব্যথাও হয় না।
পুজো প্যান্ডেলের স্বেচ্ছাসেবক, নিরাপত্তাকর্মী, যাঁদের বিশ্রামের সুযোগ কম, তাঁদের ক্ষেত্রে উপকারে আসতে পারে।
অনেকে ক্যাপসুল বা এনার্জি ড্রিঙ্ক খেতে পছন্দ করেন না, তাঁদের জন্য এটি একটি বিকল্প মাধ্যম হতে পারে।
খাদ্যনালিতে সংক্রমণ বা লিভারের অসুখে যাঁরা ভুগছেন, তাঁরা যদি ভিটামিন প্যাচ লাগিয়ে রাখেন, তা হলে দিনভর অল্প অল্প করে ভিটামিন ঢুকবে শরীরে। প্রয়োজনীয় ভিটামিনের ঘাটতি হবে না।
মাথাঘোরা, ভার্টিগো, রক্তচাপের সমস্যা থাকলে এই প্যাচ পরা যেতে পারে। তাতে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও অসুস্থতা এড়ানো যাবে।
অসুবিধা কী?
চিকিৎসকেরা বলছেন, এই প্যাচ সাধারণ ভিটামিন সাপ্লিমেন্টের মতো কাজ করে, কোনও চিকিৎসার বিকল্প পদ্ধতি নয়। তা ছাড়া এই ধরনের ভিটামিন প্যাচের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। সকলের জন্যই যে এটি কার্যকর হবে, তা না-ও হতে পারে। যাঁর রক্তচাপ বেশি, তিনি যদি ভাবেন যে ওষুধ না খেয়ে প্যাচ লাগিয়ে ঘুরবেন, তা হলে বিপদ ঘটবে।
তা ছাড়া, সব রকম ভিটামিন প্যাচের মাধ্যমে শরীরে যাওয়া সম্ভব নয়। ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২ ত্বকের মাধ্যমে শরীরে দ্রুত ঢুকতে পারবে। কিন্তু যে সব ভিটামিনের অণুর আকার বড়, যেমন ভিটামিন এ, ই, কে এবং সি, সেগুলি প্যাচের মাধ্যমে অত তাড়াতাড়ি শরীরে ঢুকতে পারবে না।
খরচ কত?
পরিচিত ই-কমার্স সাইটগুলিতে এমন প্যাচ পাওয়া যেতে পারে। কিছু হেল্থ কেয়ার ওয়েবসাইটের নিজস্ব পেজে এমন প্যাচের বিজ্ঞাপন দেওয়া থাকে। গুণমান এবং ব্র্যান্ড ভেদে ১০ থেকে ৩০টি প্যাচের একটি প্যাকেটের দাম সাধারণত ৬০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে।
