ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে নিজ ফ্ল্যাটে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোসা. ডালিয়া আক্তারের (৪৬) মরদেহ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে বাস্তা ইউনিয়নের রসুলপুর মার্কেটসংলগ্ন ওই ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে বাসায় কাজ করতে আসা এক নারীর দাবি, ফ্ল্যাটের দরজায় নক করার পর বোরকা পরা এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে দ্রুত বেরিয়ে যেতে দেখেন তিনি। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় কিংবা হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
নিহত ডালিয়া আক্তার বাঘাপুর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি বাঘাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং বাস্তা ইউনিয়ন মহিলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ডালিয়া আক্তারের বাসায় কাজ করতে যান এক নারী। এ সময় ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান তিনি। দরজায় নক করার পর বোরকা পরা এক অজ্ঞাত ব্যক্তি দ্রুত বেরিয়ে যান বলে ওই নারী পুলিশকে জানিয়েছেন। পরে ফ্ল্যাটে ঢুকে ডালিয়া আক্তারের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি। ভীত হয়ে সেখান থেকে নিজের বাসায় ফিরে যান ওই নারী। পরে বিষয়টি জানানো হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
স্থানীয়দের দাবি, ফ্ল্যাটের মেঝেতে ডালিয়া আক্তারের মরদেহ পড়ে ছিল। ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে ছিল রক্ত। সেখানে পায়ের ছাপও দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন তারা। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পায়ের ছাপের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, কিংবা এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত কি না, তা-ও এখনো নিশ্চিত নয়।
ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) জামিলুল হক কালবেলাকে বলেন, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাস্তা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বোরকা পরা ব্যক্তির বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে শনাক্ত করতে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, ছুটির দিন হওয়ায় সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ, ঘটনার প্রকৃত সময় এবং বোরকা পরা ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
