এই বছর দু'দিন সপ্তমী পড়েছিল। ফলে ৪ দিনের বদলে ৫ দিন হইহই চলেছে পুজোর। আগামী বছরও বাড়তে চলেছে পুজোর আনন্দ। কেন? ২০২৭ সালে দু'দিন অষ্টমী পড়েছে। আর অষ্টমী দুদিন যখন, তার মজা ডাবল হতে বাধ্য! পরপর দুবছর যেখানে ডাবল ডাবল সপ্তমী, অষ্টমী পড়ছে, সেখানে কখনও আবার একই দিনে সপ্তমী, অষ্টমী পড়ে যায়। অর্থাৎ চার দিনের বদলে তিন দিনের পুজো হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু কেন? ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী যেখানে রাত ১২ টায় পাতা উলটে যায়, দিন বদলে যায়, সেখানে বাংলায় কেন হয় না? কীভাবে নির্ধারণ করা হয় পুজোর দিন, তিথি?
তিথি গণনা করা হয় চাঁদ এবং সূর্যের মধ্যে যে দূরত্ব সেটার ভিত্তিতে। মহাকাশের ৩৬০ ডিগ্রি গোলাকার পথকে ৩০ ভাগে ভাগ করা হয় জ্যোতিষশাস্ত্র এবং বিজ্ঞান, দুই ক্ষেত্রেই। ফলে প্রতিটি ভাগের মান ১২ ডিগ্রি। এই ১২ ডিগ্রিকে যে সময় চাঁদ অতিক্রম করে সেটাকে একটা তিথি বলা হয়। এবার এই ১২ ডিগ্রিকে অতিক্রম করতে চাঁদের সবসময় এক সময় লাগে না। কখনও সেটা বাড়ে, কখনও কমে।
একটি তিথি সময়কাল ১৯ ঘণ্টা থেকে ২৬ ঘণ্টার মধ্যে হতে পারে। এবার প্রাচীন পঞ্জিকা অনুসারে, সূর্যোদয়ের সময় যে তিথি থাকে সেটাকেই সেই দিনের তিথি ধরা হয়। ধরা যাক আজকের সূর্যোদয়ের সময় দ্বাদশী তিথি ছিল। এবার এই তিথিটি আগামীকাল সূর্যোদয়ের সময়ও থাকবে। তাহলে দ্বাদশী তিথিটি দুদিন পড়ল। আবার, একই ভাবে কিন্তু তিথি ক্ষয় হয়। ধরা যাক, আজকের সূর্যোদয়ের পর কোনও একটা তিথি শুরু হল, আর সেটা ১৯ ঘণ্টাতেই শেষ হয়ে গেল। ফলে পরের দিনের সূর্যোদয় পেল না। তখন কিন্তু একই দিনে দু'টো তিথি পড়ে গেল। এভাবেই হয় তিথি বৃদ্ধি হয়, বা ক্ষয়।
চলতি বছরেও সপ্তমী এই কারণেই দু'দিন পড়েছিল এবং আগামী বছর অষ্টমীও দু'দিন পড়েছে। হিসেবনিকেশ যেভাবেই হোক, যেভাবেই গণনা হোক না কেন তিথির, দুর্গাপুজোর সময় একটি দিনও যদি অতিরিক্ত পায় বাঙালি তাঁদের আনন্দ দ্বিগুণ হতে বাধ্য। তাই তো এ বছরের পুজো শেষ হতে না হতেই আগামী বছরের পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে।
https://youtu.be/87PeBrznygY?si=743fBsF4FzIn__iV
