বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নে সদস্যদেশগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ফিফা। ২০২৭ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চার বছরে প্রতিটি সদস্যদেশের ফুটবল ফেডারেশনকে আড়াই কোটি মার্কিন ডলার করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩০৫ কোটি টাকা। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে এই অর্থ পাবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে)।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী চার বছরে ফুটবলের উন্নয়নে সদস্য সংস্থা, মহাদেশীয় কনফেডারেশন ও অন্যান্য অংশীজনের জন্য মোট ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে ফিফা। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৭৭ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা।
২১১টি সদস্যদেশের ফুটবল উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে এর আগে চার বছরের জন্য ১ কোটি ডলার দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ফিফার। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ফেডারেশনগুলোর জন্য বরাদ্দ আড়াই গুণ হবে।
ফিফার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের বাণিজ্যিক সাফল্য থেকে পাওয়া অর্থ ফুটবলের উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে। এ জন্য ফিফার আর্থিক সঞ্চয় থেকে ৩৫০ কোটি ডলারের বেশি বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ছয়টি মহাদেশীয় ফুটবল কনফেডারেশনের প্রতিটিকে ৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।
বাংলাদেশের ফুটবলে কী প্রভাব পড়তে পারে
প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে বাফুফের হাতে ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ আসবে। দেশের ফুটবলের অবকাঠামো উন্নয়ন, বয়সভিত্তিক দল গঠন ও পরিচর্যা, তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবল ছড়িয়ে দেওয়া এবং নারী ফুটবলের উন্নয়নের মতো খাতগুলোতে এই অর্থ কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে অর্থ কোন কোন খাতে কীভাবে ব্যয় করা হবে, তা নির্ভর করবে ফিফার বরাদ্দ ও ব্যবহারের নীতিমালা এবং বাফুফের পরিকল্পনার ওপর।
ফিফা জানিয়েছে, নতুন অর্থায়ন পরিকল্পনায় নারী ও যুব ফুটবলের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটি গৃহীত হলে ২০২৭–৩০ মেয়াদে ফুটবল উন্নয়নে অর্থ বিতরণের পরিকল্পিত পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি হবে।
আগামী ডিসেম্বরে ফিফা কাউন্সিলে আর্থিক পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করার কথা। এরপর ২০২৭ সালের মার্চে ফিফার ৭৭তম কংগ্রেসে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
