কেরালা ব্লাস্টার্সEi Samay
Published on
:
2 min read
মালিকানা বদলের পর নতুন মরশুম জয় দিয়ে শুরু করল কেরালা ব্লাস্টার্স। রবিবার পুনের শ্রী শিব ছত্রপতি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আয়োজিত ম্যাচে ইন্টার কাশীকে ২-০ গোলে হারিয়ে ISL শুরু করল কেরালা। এ বারের ISL-এ অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল ইন্টার কাশী। কারণ তারা এ বার সব ভারতীয়দের নিয়ে দল তৈরি করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-ভিত্তিক ‘আল ফুরসান স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ’ ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কেরালা শিবিরে নতুন হাওয়া বইছে। যদিও মরশুম শুরুতে দেরিতে প্রস্তুতি ও দল গঠনের ছাপ কিছুটা চোখে পড়েছে মাঠে, তবে প্রথম ম্যাচেই তিন পয়েন্ট তুলে নেওয়া দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ।
শুরু থেকে আক্রমণে কেরালা
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে জোর দেয় কেরালা। পঞ্চম মিনিটে ফ্রেডি লাললাওমাওমার দূরপাল্লার শট বারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। তবে ম্যাচের ১৮তম মিনিটেই এগিয়ে যায় ব্লাস্টার্স। ডানদিক থেকে কোরো সিংয়ের নিখুঁত মাইনাস থেকে বল পেয়ে ডান পয়ের প্লেসিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন ভিবিন মোহনান। কেরালার অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা ত্রিশূরের এই প্লেয়ার ২০২৩ সালে গ্রিসের ক্লাব OFI ক্রিটে ট্রেনিং নেন এবং ইতিমধ্যেই জাতীয় শিবিরে ডাক পেয়েছেন।
অন্যদিকে, ম্যাচ শুরুর আগে মাঠের বাইরের পাহাড়প্রমাণ ঝঞ্ঝাট সামলাতে হয়েছিল ইন্টার কাশীকে। মূল ইনভেস্টর ছেড়ে চলে যাওয়া, ফিফার বকেয়া সংক্রান্ত কারণে একের পর এক ট্রান্সফার ব্যান এবং বারাণসী বা রাঁচির বদলে পুনেতে হোম গ্রাউন্ড বেছে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল তাদের সামনে। শেষ মুহূর্তে বকেয়া মিটিয়ে ১৬ জন নতুন ফুটবলার সহ ২২ জনের দল নথিভুক্ত করলেও ফের নতুন এক ফরাসি-স্প্যানিশ ফুটবলারের বকেয়ার জন্য নতুন নিষেধাজ্ঞা চেপে বসে। যার ফলস্বরূপ, টুর্নামেন্টের একমাত্র দল হিসেবে সম্পূর্ণ বিদেশিহীন ‘অল-ইন্ডিয়ান’ স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামতে বাধ্য হয় তারা।
লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকলেও চেষ্টায় ত্রুটি ছিল না কাশীর
কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে তার কোনও প্রভাব পড়তে দেননি কাশীর ফুটবলাররা। বিশেষ করে মনবীর সিং ও রোজেনবার্গ গ্যাব্রিয়েল কেরালার রক্ষণে বারবার হানা দেন। প্রথমার্ধে এবং ম্যাচের ৬১ মিনিটে মনবীরের দুটি নিশ্চিত গোলমুখী প্রচেষ্টা অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন কেরালার গোলরক্ষক আর্শ শেখ। ৭২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আয়ুশ ছিকারার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে কেরালার পরিবর্ত স্ট্রাইকার মোমো ইয়ানসানে ও আন্দ্রে গ্রিন সুযোগ নষ্ট করায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ব্যবধান ছিল মাত্র ১-০।
১ গোলে পিছিয়ে থাকা ইন্টার কাশী যখন সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে অল-আউট আক্রমণে উঠেছিল, ঠিক তখনই প্রতিআক্রমণ থেকে ম্যাচের কফিনে শেষ পেরেক পোঁতে কেরালা। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে (৯০+৪ মিনিট) মহম্মদ সানানের বুদ্ধিদীপ্ত বাড়ানো বল ধরে ঠান্ডা মাথায় বাঁ পায়ের কোণাকুণি শটে সেকেন্ড পোস্ট দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন আন্দ্রে গ্রিন (২-০)।
এই জয়ে স্বস্তি ফিরল কেরালা শিবিরে। আগামী ১৮ অক্টোবর গুয়াহাটিতে নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি-র চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে তাদের। অন্যদিকে হার দিয়ে অভিযান শুরু করলেও সম্পূর্ণ দেশীয় দল নিয়ে ইন্টার কাশী যেভাবে লড়েছে, তা আগামী ১৭ অক্টোবর ওডিশা এফসি-র বিরুদ্ধে ম্যাচে তাদের এগিয়ে রাখবে।
