ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না ছুটে সাজেকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের পরিস্থিতি নিয়ে ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না ছুটে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই উল্লেখ করে তিনি সময় থাকতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।
পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, “রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে? ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না দৌড়িয়ে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
“সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই। সময় থাকতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।”
এদিকে, সাজেকে সড়ক অবরোধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠন দুটির অভিযোগ, সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পরিস্থিতির কারণে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের ভ্রমণ স্থগিত করেছে। সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে সাজেক ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিরাপত্তায় পর্যটকদের বহনকারী গাড়িবহর সাজেক থেকে বের হওয়ার পথে উজোবাজার এলাকায় অবরোধের মুখে পড়ে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র দলের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আবদুর রাকিবের বরাতে জানা যায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোলাগুলি শুরু হয় এবং দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তা চলছিল।
এর আগে, গত ১১ অক্টোবর তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগে ১৫ অক্টোবর পুনরায় অবরোধ শুরু হয়। এরপর শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল।
