Published on
:
3 min read
এই সময়, নয়াদিল্লি: আগামী এক বছর রাজধানী দিল্লিতে কোথাও কোনও ভাবে শান্তিভঙ্গ করবেন না তিনি— দিল্লি পুলিশকে এমনই মুচলেকায় (পিস বন্ড) সই করে শনিবার শর্তসাপেক্ষ জামিন পেলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত্ দীপকে৷
শুক্রবার দিল্লির কনৌট প্লেসে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন দীপকে৷ অবশ্য সেখানে যোগ দেওয়ার আগেই তাঁকে আটক করে গাড়িতে তুলে নেয় দিল্লি পুলিশ। গভীর রাতে জানা যায়, বিএনএসএস ১৬৩ ধারা লঙ্ঘন করে কনৌট প্লেসে জমায়েত করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় দিল্লিবাসীকে লাগাতার উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে দীপকেকে ‘প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট’ করেছে পুলিশ৷ জোড়া মামলার কথাও প্রকাশ্যে আসে এ দিন। কিন্তু শুক্রবার রাতভর তাঁকে কোথায় রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে সরকারি ভাবে কোনও তথ্য দেয়নি দিল্লি পুলিশ৷ শনিবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দীপকেকে মন্দির মার্গ থানা-লাগোয়া স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের(এসইএম) এজলাসে নিয়ে আসে পুলিশ৷ সেখানেই ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন দীপকে৷ জিনস আর সাদা গোল-গলা টিশার্ট পরে মন্দির মার্গ থানা থেকে বেরিয়ে দীপকে এ দিন অপেক্ষারত সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি৷ গাড়িতে বসেই মুষ্টিবদ্ধ হাত দেখিয়ে এলাকা ছাড়েন তিনি৷
দীপকে ছাড়া পেলেও এখনও তিহাড় জেলেই বন্দি তাঁর দুই সতীর্থ আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস৷ বিএনএসএস ১৬৩ ধারা লঙ্ঘন করে জাতীয় পতাকা-সহ যন্তর মন্তর চত্বরে ঢুকে অশান্তির বাধানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাঁদের। দিল্লি পুলিশ সূত্রের দাবি, তিহাড়ে আশুতোষ (কয়েদি নম্বর ১৭৮৪) ও সৌরভকে (কয়েদি নম্বর ৩৭৫২) রাখা হয়েছে হাই সিকিউরিটি জেল নম্বর ২-এর আলাদা আলাদা সেলে৷ তাঁদের সঙ্গে অন্য কোনও কয়েদিকে রাখা হয়নি। কাউকে দেখাও করতে দেওয়া হচ্ছে না তাঁদের সঙ্গে৷ সিজেপি সূত্রের দাবি, আশুতোষ-সৌরভ জেল থেকে বেরোনোর পরে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করেই সংগঠনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাববেন দীপকে৷ দিল্লি পুলিশ যে ভাবে গোটা রাজধানীকে কার্যত দুর্গে রূপান্তরিত করেছে, তা দেখার পরে সিজেপি নেতৃত্ব এ বার তাদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভের স্ট্র্যাটেজি পাল্টাতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে।
এ দিকে, নবরাত্রি শেষ হলেই নতুন করে সার-বিরোধী আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা করছে বিরোধী শিবির৷ একইরকম ভাবে আলাদা আন্দোলনের ছক কষা হচ্ছে সিজেপির শীর্ষ স্তরেও৷ তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে শনিবার আরও একবার সিজেপি-র প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে তামিলনাড়ুর প্রাক্তন শাসক দল ডিএমকে৷ কংগ্রেসের সঙ্গে কার্যত বেশ খানিকটা দূরত্ব বাড়িয়েই ডিএমকে সাংসদ এ রাজা ও কানিমোড়ি জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁরা সিজেপির আন্দোলনকে শুধু সমর্থন জানিয়ে ক্ষান্ত হবেন না, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণও করবেন৷ জেলবন্দি সিজেপি নেতা আশুতোষ-সৌরভকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেছেন ডিএমকে সভাপতি এম কে স্ট্যালিন। এখন দেখার কংগ্রেস কিংবা ‘ইন্ডিয়া ব্লক’-এর বাকিরা আদৌ সিজেপি-র কাঁধে হাত রাখে কি না!
এ সবের মধ্যেই শনিবার ফের দিল্লিতে বিক্ষোভ দেখান বাম-সমর্থিত বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা৷ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি এই বিক্ষোভে দিল্লি পুলিশের আচরণেরও তীব্র নিন্দা করা হয়৷ প্রথমে বিক্ষোভকারীরা দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে জমায়েত করার চেষ্টা করেন৷ সেখান থেকে সরানো হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁরা সমবেত হন যন্তর মন্তর লাগোয়া অশোকা রোডে৷ সেখান থেকে যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার আগেই তাঁদের পথ আটকায় দিল্লি পুলিশ৷ খানিকটা ধস্তাধস্তি হলেও বাসে তুলে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে গোটা এলাকা খালি করতে দিল্লি পুলিশের বেশি সময় লাগেনি৷ এর পরেই ফের এ দিন দিল্লি পুলিশকে নিশানা করে সরব হন বাম সমর্থিত ছাত্র সংগঠন আইসা-র সর্বভারতীয় সভানেত্রী নেহা বোরা৷ শুক্রবার মান্ডি হাউস চত্বর থেকে নেহাকে আটক করেছিল পুলিশ৷ মাঝরাতে তাঁকে ছাড়া হয় রামকৃষ্ণ পুরম থানা থেকে৷ কী ভাবে সূর্যাস্তের পরে একজন মহিলাকে গ্রেপ্তার না-করেই এতক্ষণ আটকে রাখল দিল্লি পুলিশ — প্রশ্ন তুলেছেন নেহা ও তাঁর সতীর্থরা৷ এই মর্মেই নেহার তোপ, ‘দিল্লি পুলিশ আন্দোলন দমানোর লক্ষ্যে যাকে ইচ্ছে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে আটক করে রাখছে রাতভর৷ আইনের তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না৷’ এই মর্মেই নেহার সংযোজন, ‘জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না-করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন জারি থাকবে৷’
