কালবেলা · আন্তর্জাতিক
গাজায় ইসরায়েলের হামলা ও গুলিতে নিহত ৪
২২/১০/২০২৬

যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত দেড় হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলা ও গুলিতে অন্তত চারজন নিহত হন।
গাজা সিটিতে একটি গাড়িতে হামলায় অন্তত একজন নিহত হন। এর আগে চিকিৎসাকর্মীরা এ ঘটনায় দুজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। হামলার পর গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। পরে জরুরি সেবাকর্মীরা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
এছাড়া দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে সাইকেলে থাকা এক ফিলিস্তিনি এবং মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের কাছে আরেকজন নিহত হন। উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের কাছে ইসরায়েলি সেনার গুলিতে এক নারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসাকর্মীরা।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, খান ইউনিস, নুসেইরাত ও গাজা সিটিতে হামাসের যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে জাবালিয়ায় নারী নিহত হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে তারা কিছু জানে না বলে জানিয়েছে।
ইসরায়েলের দাবি, হামাস যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবার অস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ কারণে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হামাসের ওপর হামলা বাড়িয়েছে ইসরায়েল।
তবে হামাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির দাবি, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার চুক্তি ভঙ্গ করছে ইসরায়েল।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বছর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। ওই চুক্তিতে গাজা পুনর্গঠনের কথা রয়েছে। তবে হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হতে পারেনি। ফলে চুক্তি বাস্তবায়নে তেমন অগ্রগতি হয়নি। এর মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা চলছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত দেড় হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, এ সময়ে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ওই দিন হামাসের নেতৃত্বে যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালান। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন।
সূত্র: রয়টার্স
মূল প্রতিবেদনে যান ↗