দু’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তথা লৌহমানব লালকৃষ্ণ আডবানী। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় সোমবার দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থের বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয় নবতিপর বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবানীর। বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছেন ৯৮ বছর বয়সি প্রাক্তন সাংসদ। শুক্রবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে সাতটা নাগাদ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের পালমোনারি বিভাগের আইসিইউ-তে ভর্তি করা তাঁকে। জানা যায়, বুকে সংক্রমণ হওয়ায় চিকিৎসকদের একটি দলের পর্যবেক্ষণে ছিলেন প্রবীণ এই রাজনীতিক। হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাড়িতে পাঠানো হলেও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে আডবানীকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাড়িতে পাঠানো হলেও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে আডবানীকে।
আসলে গত বছর তিনেক ধরেই শরীরটা ভালো যাচ্ছে না আডবানীর। যে কারণে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু নেতার বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতে তুলে দেন ভারতরত্ন সম্মান। এ বছর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার হাসপাতালে ভর্তি হতে হল আডবানীকে। বার্ধক্যজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে চলতি বছরের মে মাসে ওই বেসরকারি হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। তিনি কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সেখান থেকে ছাড়া পান।
উল্লেখ্য, ১৯২৭ সালে করাচিতে (তৎকালীন অবিভক্ত ভারতে) জন্ম ‘লৌহমানবে’র। আরএসএসের মাধ্যমেই রাজনৈতিক পথ চলা শুরু করেন। ১৯৮০ সালে ভারতীয় জনতা পার্টির জন্মের অন্যতম রূপকার তিনি। জনতা দল ছেড়ে সঙ্গীদের নিয়ে বিজেপির জন্ম দেন। তাঁর উত্থানের সঙ্গেই ভারতীয় রাজনীতিতে জুড়ে যায় রামের রাজনীতি। গত শতকের আটের দশকে ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তাঁর নেতৃত্বে রথযাত্রার মধ্যে দিয়েই অযোধ্যায় রামমন্দিরের আন্দোলনের প্রকৃত সূচনা। ২০০২-২০০৪ সালে অটলবিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভায় উপপ্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন ছিলেন তিনি।
