এক কাপ চা কেবল দারুণ উপভোগ্যই নয়, এটি দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যগত দিকগুলোর ওপরও প্রভাব রেখে আসছে। এগুলোর মধ্যে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি হ্রাস অন্যতম।
তবে চা পানের মাধ্যমে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী সুফলগুলো পাবেন কি না, তা নির্ভর করে আপনি কীভাবে পানীয়টি গ্রহণ করেন। অতিরিক্ত গরম চায়ের চেয়ে মাঝারি গরম চা পানে উপকার বেশি।
‘জার্নাল অব ইন্টারনাল মেডিসিন’এ বুধবার প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা ফলাফলে বলা হয়েছে, মানুষ কীভাবে চা তৈরি করে এবং পান করে তা তাদের হৃদরোগের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এই গবেষণার ফলাফল এবং হৃদরোগের ওপর এর প্রভাব নিয়ে জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল অ্যাসোসিয়েট অধ্যাপক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লিয়ানা ওয়েন সিএনএনকে জানিয়েছেন, যারা সপ্তাহে অন্তত তিন দিন চা পান করেছেন আর তাদের মধ্যে যারা কম চা পান করেছেন, তাদের তুলনায় ঘন ঘন পানকারীদের হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ১১ শতাংশ কম ছিল।
বয়স, ধূমপান, শারীরিক পরিশ্রম, শরীরের ওজন এবং বিদ্যমান শারীরিক অবস্থার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই ফলাফল পাওয়া গেছে। তবে যারা ধূমপান করেন না এবং নিয়মিত চা পানের পাশাপাশি উচ্চ মাত্রায় শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি সবচেয়ে কম ছিল।
দেখা গেছে যে, মাঝারি কড়া চা ঝুঁকি কমায় আর সবুজ চায়ের তুলনায় কালো চা অনেক ধরনের হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে বেশি কার্যকর ।
তবে সম্ভবত সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হল, যারা, যারা নিয়মিত অতিরিক্ত গরম চা পান করেন না তাদের তুলনায় অতিরিক্ত গরম চা পানকারীদের হৃদরোগের ঝুঁকি ১৬ শতাংশ বেশি ছিল।
চায়ে পলিফেনল নামক প্রাকৃতিকভাবে তৈরি কিছু উপাদান থাকে, যার মধ্যে ফ্ল্যাভোনয়েডও অন্তর্ভুক্ত। এগুলোর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহরোধী গুণাগুণ আছে। এই উপাদানগুলো রক্তনালীর ভেতরের কোষগুলোকে রক্ষা করতে এবং ধমনীগুলোকে শিথিল ও প্রসারিত হতে সাহায্য করতে পারে, যা রক্তচাপ হ্রাস করে এবং হার্টের ওপর চাপ কমায়।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, চা পান রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের মাত্রা এবং হৃদরোগের অন্যান্য সূচকগুলোতে সামান্য উন্নতি করতে পারে। এই প্রভাবগুলোই হয়তো ব্যাখ্যা করে যে কেন নিয়মিত চা পান করা মানুষের স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং হৃদরোগের অন্যান্য গুরুতর পরিণতির হার কম হয়।
