বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ২ নম্বর চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ডে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ সালের ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে ১৫ জনের বেশি রোহিঙ্গা ভোটার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেওয়া ওই আবেদনে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের যোগসাজশ ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন, জাতীয়তা সনদসহ ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরিতে অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্তে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ১৫ জনের তালিকা দিয়ে তদন্তের দাবি, অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তি এর আগে একাধিকবার ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেও সফল হননি। পরে ২০২৫ সালের ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে তাঁরা তালিকাভুক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের বাসিন্দা সাংবাদিক আমির সাদেকী।
তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভোটার হওয়ার আবেদন ও সংযুক্ত নথিপত্র যাচাই করা হলে জন্মনিবন্ধন কার্যালয়, নিবন্ধনের তারিখ, পিতা-মাতার পরিচয় এবং ঠিকানাসংক্রান্ত বিভিন্ন অসংগতি বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযোগের সঙ্গে সন্দেহভাজন ১৫ জনের একটি তালিকা এবং দুজনের জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত অনলাইন যাচাইয়ের নথি সংযুক্ত করা হয়েছে বলে আবেদনকারীরা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভোটার তালিকার হালনাগাদ তথ্য ও সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্র পরীক্ষা করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব।
তবে অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের রোহিঙ্গা পরিচয় কিংবা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে অনিয়মের বিষয়টি এখনো তদন্তসাপেক্ষ। সংযুক্ত নথিপত্র যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ, আবেদনকারীরা অভিযোগের তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, অভিযোগের তথ্য প্রকাশ পেলে তাঁরা হয়রানি বা হামলার শিকার হতে পারেন।
আবেদনে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত, অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের অনুলিপি বান্দরবান জেলা নির্বাচন অফিস, জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও পাঠানো হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ রয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচন কর্মকর্তার বক্তব্য, ২ নম্বর চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বলেন, “ওয়ার্ড মেম্বারদের শনাক্তের ভিত্তিতে তাঁদের জাতীয়তা সনদ ও জন্মনিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। আমি অভিযোগের বিষয়টি দেখছি; প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাহিদ শাহরিয়ার বলেন, “ভোটার তালিকা করার সময় জাতীয়তা সনদ ও জন্মনিবন্ধন দেয় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। সুতরাং কে রোহিঙ্গা, তা শনাক্তের প্রাথমিক দায়িত্ব তাঁর। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে এনআইডি লক করে দেওয়া হবে। অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে স্থানীয় সরকার।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও দাবি করেন, এর আগে রোহিঙ্গাদের ভোটার করার অভিযোগ নিয়ে তদন্তে সত্যতা পাওয়া গিয়েছিল। তাঁর মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচন অফিসের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা প্রয়োজন। শুধু ছোটখাটো শাস্তি দেওয়া হলে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করা কঠিন হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেলে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের বৈধতা এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
The post আলীকদমে ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ, তদন্ত চেয়ে ইউএনওর কাছে আবেদন appeared first on ভোরের চেতনা.
