
ছবি: সংগৃহীত
মোঃ হারুন অর রশীদ, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি
লালমনিরহাটে তিস্তা নদীতীরবর্তী মানুষের পারাপার ও বন্যার সময় উদ্ধারকাজের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া কোটি টাকা মূল্যের দুটি মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোট অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
‘বুড়িমারী-লালমনিরহাট-১’ ও ‘বুড়িমারী-লালমনিরহাট-২’ নামের বোট দুটি কারিগরি ত্রুটির কারণে দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এতে বাংলাদেশের চিরাচরিত অবহেলার চিত্রই ফুটে উঠেছে।
জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের জেলা লালমনিরহাটে প্রতিবছর তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার শত শত ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়। বন্যার সময় দুর্গত মানুষকে উদ্ধার এবং নদীপথে পারাপারের সুবিধা দিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২১ ও ২০২২ সালে বোট দুটি সরবরাহ করা হয়। প্রথম দিকে প্রায় এক বছর সচল থাকলেও পরে কারিগরি সমস্যায় সেগুলো অচল হয়ে পড়ে।
বর্তমানে লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন তিস্তা নদীর ধারে বোট দুটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় এগুলোর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মূল্যবান নাট-বল্টুসহ অন্যান্য সরঞ্জাম হারিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট না থাকায় নৌযান দুটি ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে চালকদের বেতনও। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে বেতন না পাওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে রয়েছেন।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, বোট দুটি সরবরাহের পর প্রায় এক বছর ভালোভাবে চললেও পরে কারিগরি সমস্যার কারণে অচল হয়ে পড়ে। বর্তমানে এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে না। বোট দুটির চালকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং নৌযান দুটি বিধি মোতাবেক সংরক্ষণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি উদ্যোগে প্রয়োজনীয় মেরামত, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করে বোট দুটি পুনরায় চালু করা হোক। এতে বন্যার সময় দুর্গত মানুষকে দ্রুত উদ্ধার, জরুরি সহায়তা পৌঁছানো এবং নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হবে।
