কালবেলা · বিনোদন
ছেলের অপেক্ষায় নাসিমা খানের শেষ বিদায়
১৩/১০/২০২৬

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খানের জানাজা ও দাফন হবে আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর)। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান দেশে ফেরার পরই শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।
বর্তমানে এ অভিনেত্রীর মরদেহ রাজধানীর একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক অভিনেতা সনি রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নাসিমা খানের বড় ছেলে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরবেন। সেদিনই জানাজা ও দাফন করা হবে।
জানাজার সময় ও স্থান পরে জানিয়ে দেওয়া হবে। মরদেহ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) নেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্তও ছেলে দেশে ফেরার পর নেওয়া হবে।
সনি রহমান জানান, রোববার রাতে উত্তরার লুবনা হাসপাতাল থেকে মরদেহ নেওয়ার পর গোসল শেষে ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা হয়। পরে সোমবার সকালে মরদেহ একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়।
রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাসিমা খান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
এদিকে নাসিমা খানের ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। সনি রহমান বলেন, পারিবারিকভাবে জানতে পেরেছেন, কুশল এখনো বাসায় ফেরেননি। তবে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন, নাকি অপহৃত হয়েছেন, সে বিষয়ে পরিবার বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন নাসিমা খান। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান ছিলেন ব্যবসায়ী।
১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। এরপর ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এ সিনেমার মাধ্যমে দর্শকমহলে পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি।
ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করে নিজের অবস্থান তৈরি করেন নাসিমা খান। আনোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম, রহমান, গোলাম মুস্তাফা ও আজিমের মতো গুণী অভিনেতাদের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি। ঢাকার চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে নির্মিত চলচ্চিত্রেও কাজ করে সুনাম অর্জন করেন।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’।
লাহোরে নির্মিত ‘নয়ি লায়লা নয়া মজনু’ (১৯৬৯), ‘গীত কাহিঁ সংগীত কাহিঁ’ (১৯৬৯), ‘আঁসু বন গয়ে মোতি’ (১৯৭০) ও ‘রোড টু সোয়াত’ (১৯৭১) চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন তিনি। এর মধ্যে ‘গীত কাহিঁ সংগীত কাহিঁ’ সিনেমার প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
স্বাধীনতার পর একসময় রুপালি পর্দা থেকে দূরে সরে যান নাসিমা খান। পরে টেলিভিশনে উপস্থাপনার মাধ্যমে আবারও পর্দায় ফেরেন। অভিনয় করেন বেশ কিছু নাটক ও চলচ্চিত্রে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ চলচ্চিত্রে সর্বশেষ তাকে দেখা যায়।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗