পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের বৃ-রায়নগর কালীবাড়ি এলাকায় অবৈধভাবে মজুত করা ১১৪ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা সার কৃষকদের মধ্যে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।
বিক্রয়লব্ধ ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের বৃ-রায়নগর কালীবাড়ি এলাকায় ‘মেসার্স চলনবিল এগ্রো এন্টারপ্রাইজ’- এর স্বত্বাধিকারী ও কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. মহাসিন আলমের মজুত করা সার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিলে তাঁরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানান।
খবর পেয়ে চাটমোহর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল মাহমুদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করেন।
এ সময় ৮৪ বস্তা টিএসপি ও ৩০ বস্তা এমওপি সার জব্দ করা হয়। অভিযানে কৃষি বিভাগ ও পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব সার মজুত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় কৃষকেরা একত্রিত হয়ে সারগুলো আটকে রাখেন এবং প্রশাসনকে খবর দেন। পরে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়।
এ অভিযানে চাটমোহর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শোয়েব রহমান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাঈদুর রহমান সাঈদ, চাটমোহর থানা পুলিশ এবং হান্ডিয়াল তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, জব্দ করা ৮৪ বস্তা টিএসপি ও ৩০ বস্তা এমওপি সার কৃষকদের মধ্যে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। মোট ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় অবৈধভাবে সার মজুত ও বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, মহাসিন আলম পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ বাজারে কীটনাশকের ব্যবসা করেন। তাঁর বাসা পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের বৃ-রায়নগর কালীবাড়ি এলাকায়। এ কারণে ঘটনাস্থলে চাটমোহর উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে।
