October 16, 2026, 7:18 pm
মানারাতে দুই দিনব্যাপী স্টেম ফেস্ট শুরু, অংশ নিচ্ছে ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী
Reporter Name
- Update Time : Friday, October 16, 2026
- 11 Time View
শিক্ষা ডেস্ক: শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে রাজধানী ঢাকায় একটি বর্ণিল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাম্পাসে সম্প্রতি এই দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। মানারাত ক্লাবস ফর কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় রাজধানীজুড়ে অবস্থিত প্রায় ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পারদর্শী করে তুলতে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন। উৎসবের প্রথম দিনেই বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নানা ধরনের জ্ঞানমূলক প্রতিযোগিতা মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। সকালের দিকে গণিত অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমের শুভসূচনা হয় এবং একে একে সাধারণ বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও রসায়ন অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া রোবোটিকস, মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম, ট্রেজার হান্ট এবং পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মতো আকর্ষণীয় ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখে।
উৎসবের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা এই ধরনের আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, পাঠ্যপুস্তকের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা এবং বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এমন সহশিক্ষা কার্যক্রমের জুড়ি নেই। স্টেম ফেস্টের আহ্বায়ক ও মানারাত সায়েন্স ক্লাবের ইনচার্জ ড. মো. মাকসুদুল আলম উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানো এবং তাদের মধ্যে বিজ্ঞানমুখী ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করাই এই উৎসবের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের শেখার আনন্দ এবং বাস্তবমুখী চিন্তার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই এই সুপরিকল্পিত আয়োজন করা হয়েছে বলে তিনি জানান। মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুল আলম বলেন, এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞানচর্চায় যুক্ত করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মাঝে গবেষণা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা গড়ে তোলার দারুণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী একদিন বিশ্বমঞ্চে বিজ্ঞানী হিসেবে নোবেল পুরস্কার অর্জন করবে এবং মানবকল্যাণে নিজেদের জ্ঞান উৎসর্গ করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রব বলেন যে, মানবসভ্যতার সামগ্রিক সমৃদ্ধি এবং আধুনিকায়ন অনেকাংশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক অগ্রগতির ওপর নির্ভরশীল। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা এবং নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমেই আগামী দিনের বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বৈজ্ঞানিক সাফল্যের পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করা অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে তিনি তরুণদের পরিবেশবিজ্ঞান, জলবায়ুবিদ্যা ও আবহাওয়া বিদ্যায় আরও বেশি গবেষণার আহ্বান জানান। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সংকল্প’ কবিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন যে, মানুষের বিজ্ঞানমনস্ক অনুসন্ধিৎসা যুগ যুগ ধরে মানবসমাজকে নতুন দিগন্তের সন্ধান দিয়ে আসছে। বিজ্ঞান কেবল কিছু প্রযুক্তিগত আবিষ্কারের মাধ্যম নয়, এটি মূলত একটি সুশৃঙ্খল চিন্তাধারা ও অনুসন্ধানের বাস্তব প্রক্রিয়া।
উৎসবের প্রথম দিনের বর্ণিল আয়োজনের পর দ্বিতীয় দিনেও বেশ কিছু আকর্ষণীয় ইভেন্ট নির্ধারিত রয়েছে। দ্বিতীয় দিনের সকাল থেকেই কম্পিউটার সায়েন্স অলিম্পিয়াড, মাইনক্রাফটভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। দুপুরের দিকে রোমাঞ্চকর ট্রেজার হান্ট প্রতিযোগিতা শেষে বিকেলে এক আকর্ষণীয় সমাপনী অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে এই দুই দিনব্যাপী উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। উদ্বোধনী ও সমাপনী পর্বে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখার প্রিন্সিপাল, ভাইস প্রিন্সিপাল, কো-অর্ডিনেটর এবং বিশিষ্ট শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত থেকে পুরো আয়োজনকে সফল করে তোলেন। বিজ্ঞানের সঙ্গে নৈতিক শিক্ষার চমৎকার সমন্বয়ে গড়া এই উৎসব তরুণ শিক্ষার্থীদের মনে আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে দারুণ সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


