খুলনা গেজেট অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১:২২ পূর্বাহ্ণ
উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদী ভাঙন এলাকা থেকে লোকালয়ে বোরিং করে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি মহল। এমন অবস্থা চলতে থাকলে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে।
১৪৩৩-১৪৩৪ অর্থ বছরে শ্যামনগর তথা সাতক্ষীরা জেলায় কোনো বালু মহল ঘোষণা না হলেও শ্যামনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার নওয়াবেকী বাজারের দক্ষিণ পাশে আরাব আলী, জামান সাহেব, সাবেক মেম্বার বাসার নদীর চরে ও পাউবো’র বেড়িবাঁধের ভিতরে বালুর স্তূপ করে ব্যবসা করছে। এ ছাড়া বুড়িগোযালিনী ইউনিয়নের মাসুদ মোড়ে ও দাতিনাখালীর চেয়ারম্যান মোড়ে বর্তমানে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। মুন্সিগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডের পাশে ফেরদাউস নামে এক ব্যক্তি বালুর স্তূপ করে ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। নওয়াবেকী এলাকার বড় কুপট এলাকার একাধিকজন জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু করে সারারাত খোলপেটুয়া নদী ভাঙন এলাকা থেকে আত্মঘাতী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে গোলা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় এলাকাবাসী কার্গোসহ ২ জনকে আটক করে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইনকে জানালেও তিনি শুধু মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বৃহত্তর খুলনার সুন্দরবন সংলগ্ন ৫২ ইউনিয়নকে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। তথ্য অনুযায়ী পরিবেশগত ইউনিয়ন গুলোর মধ্যে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়ি গোয়ালিনী, আটুলিয়া, মুন্সিগঞ্জ ও কৈখালী ইউনিয়ন উল্লেখযোগ্য।
সেখানে আরও বলা হয়েছে, সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেস্টের বাইরে চারিদিকে ১০ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ এলাকায় টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাস বলেন, “সাতক্ষীরা জেলার মধ্যে বর্তমানে কোনো বালু মহলের দাগ নেই। তথ্য দিলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।”
এলাকাবাসী জানান, “একদিন বন্ধ রেখে পরের দিন থেকে প্রতিদিন একই নিয়মে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।” শ্যামনগর উপকূলীয় মানুষ অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে ভূমি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
খুলনা গেজেট/এএজে
