জাতীয় ও রাজনীতি ব্যুরো:
বন্ধ কল-কারখানা পুনঃচালু, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে বেগবান করতে বিএনপি সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারের এসব মেগা-পরিকল্পনা ও রূপরেখা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য হলো নতুন ও বন্ধ হয়ে যাওয়া কর্মসংস্থান পুনরায় নিশ্চিত করা। ইনশাআল্লাহ, আগামী ১২ মাসের মধ্যে—অর্থাৎ ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশে বন্ধ থাকা আরও প্রায় ৪৬টি কল-কারখানা পর্যায়ক্রমে চালুর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।"
জনসভায় ঘোষিত প্রধান উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক পরিকল্পনাসমূহ
১. শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি
উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগ আকর্ষণ: বন্ধ কল-কারখানা চালুর মাধ্যমে দেশের বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন শিল্পে অর্থায়নের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
২. কৃষি খাত ও ‘ফার্মার্স কার্ড’ (কৃষক কার্ড)
কৃষকদের বিশেষ সুরক্ষা: কৃষি ও কৃষককে বাঁচাতে ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালু করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
কার্ডের সুবিধাসমূহ: এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সার, মানসম্মত বীজ ও কীটনাশক সহায়তা, ব্যাংক ঋণ, ফসলের বীমা সুবিধা এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস সংক্রান্ত তথ্য সহজে পাবেন।
৩. নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’
পরিবারভিত্তিক সহায়তা: প্রান্তিক পরিবারগুলোর মা ও নারীদের অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মাসিক ভাতা: এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবার প্রধান নারীকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে, যা ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায় থেকে দেশব্যাপী টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
৪. স্বাস্থ্য খাতের অভূতপূর্ব আধুনিকায়ন
উপজেলা হাসপাতালের মানোন্নয়ন: আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০-এ উন্নীত করা হবে।
বিশেষায়িত সেবা: হাসপাতালগুলোতে শিশু ও নারীদের জন্য পৃথক শয্যা বিন্যাস এবং কিডনি রোগীদের জন্য আধুনিক ডায়ালাইসিস সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
৫. তিস্তা ও পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ এবং পানির সংকট নিরসন
১৪টি জেলার ভাগ্যবদল: উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানির সংকট সমাধানে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে বিশালাকার ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।
সুফলভোগী অঞ্চল: বিশেষ করে পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হলে রাজশাহীসহ তৎসংলগ্ন অঞ্চলের প্রায় ১৪টি জেলার মানুষ সুপেয় পানি ও সেচ সুবিধা লাভ করবে।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান
দেশে কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন:
"জনগণ এখন দেশে পূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা চায়। সাধারণ মানুষ চায় তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হোক এবং শান্তিময় পরিবেশে দেশটি সামনের দিকে এগিয়ে যাক।"
এ জাতীয় আরো খবর..
