
ভারতের ধনকুবের মুকেশ আম্বানির টেলিকম ও ডিজিটাল সেবা প্রতিষ্ঠান জিও প্ল্যাটফর্মসের ৩২০ কোটি ডলারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক সাড়া মিলেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আইপিওতে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিনে শেয়ারের চাহিদা আরও বেড়েছে। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বাজারে আসার উদ্যোগ ভারতের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিওর আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারী, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, কর্মী ও বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে জোরালো সাড়া এসেছে। শুক্রবার পর্যন্ত বিক্রির জন্য বরাদ্দ শেয়ারের ছয় গুণের বেশি আবেদন জমা পড়ে। আবেদনকারীরা নির্ধারিত মূল্যসীমার সর্বোচ্চ দামে শেয়ার কেনার প্রস্তাব দিয়ে থাকলে মোট চাহিদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৫০ কোটি ডলারের বেশি।
জিওর শেয়ারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১১৯ রুপি পর্যন্ত মূল্যসীমার মধ্যে। আইপিওটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন হতে পারে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার। আগামী ২৮ অক্টোবর শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হলে এটি ভারতের বাজারমূল্যের দিক থেকে অন্যতম বড় কোম্পানিতে পরিণত হতে পারে।
জিও প্ল্যাটফর্মসের মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন ৫০ কোটিরও বেশি গ্রাহক। প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ রয়েছে মেটা প্ল্যাটফর্মস ও গুগলের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানেরও। মুকেশ আম্বানির বড় ছেলে আকাশ আম্বানির নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে কোম্পানিটি।
গত বুধবার আইপিওর আবেদন শুরু হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রির জন্য বরাদ্দ সব শেয়ারের সমপরিমাণ আবেদন জমা পড়ে। ভারতের অধিকাংশ আইপিওতে সাধারণত শেষ সময়ের দিকে আবেদনের গতি বাড়লেও জিওর ক্ষেত্রে শুরু থেকেই ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আবেদনের পাশাপাশি বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও উল্লেখযোগ্য। সোমবার আবুধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি, ব্ল্যাকরক ও ফিডেলিটির মতো বিনিয়োগকারীরা তাঁদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ারের বিপরীতে আবেদন করেন। ৮৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সংরক্ষিত শেয়ারের বিপরীতে তাঁদের আবেদন জমা পড়ে ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি।
জিও প্ল্যাটফর্মস মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের অংশ। ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের কাছে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ বৃদ্ধির সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে রিলায়েন্সের পরিচিতি রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৬ সাল থেকে রিলায়েন্সের শেয়ারের মোট রিটার্ন প্রায় ৯০০ শতাংশ। একই সময়ে ভারতের বেঞ্চমার্ক নিফটি সূচকের রিটার্ন ছিল ৬৮৫ শতাংশ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারের মূল্যায়ন নিয়ে যখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়তি যাচাই-বাছাই চলছে, তখন জিওর মতো বড় প্রযুক্তি ও টেলিকম প্রতিষ্ঠানের আইপিও বাজারের মনোভাব বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
The post আম্বানির জিওর আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের ঢল, চাহিদা ছাড়াল ১৪৫০ কোটি ডলার appeared first on অর্থসূচক.
