বলিউডের প্রবীণ কৌতুকশিল্পী জনি লিভার মারা গেছেন—এমন শিরোনামে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ফটো কার্ড। প্রিয় তারকার মৃত্যুর খবরে হতবাক তার ভক্ত-অনুরাগীরা।
ভাইরাল ফটো কার্ডে দেখা যায়, জনি লিভারের বড় একটি ছবি মাঝখানে রাখা হয়েছে। তার পাশে রয়েছে কৌতুকশিল্পীর দুটো সাদা-কালো ছবি। পাশাপাশি জ্বলছে মোমবাতি, ফুলের সাজসজ্জা এবং শোকজ্ঞাপনের সঙ্গে হিন্দি ভাষায় বার্তা। পোস্টারটিতে হিন্দি ভাষায় যা লেখা আছে, তার বাংলা অনুবাদ দাঁড়ায়—“জনি লিভারের প্রয়াণ, হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধাঞ্জলি”।
নির্ভরযোগ্য সূত্র না থাকায় জনি লিভারের মৃত্যুর খবরটি নিয়ে নেটিজেনদের অনেকে পাল্টা প্রশ্নও তুলেছেন। এসব নিয়ে যখন জোর চর্চা চলছে, তখন বিষয়টির সত্যতা জানতে কৌতুকশিল্পীর কন্যা জেমি লিভারের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাইমস অব ইন্ডিয়া। এ বিষয়ে জেমি লিভার বলেন, “এটা বারবার ঘটে। আমি এসবকে গুরুত্ব দিতে চাই না।”
জনি লিভারের মৃত্যুর গুজব এবারই প্রথম নয়। ২০২২ সালেও এমন খবর ছড়িয়েছিল। চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল জনি লিভার ও নানা পাটেকরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। এ নিয়েও বিরক্ত হয়েছিল ‘বাজিগর’খ্যাত এই অভিনেতার পরিবার।
হিন্দি সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় কমেডিয়ান জন প্রকাশ রাও জানুমালা। সিনেমাপ্রেমীরা যাকে জনি লিভার নামেই চেনেন। দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন। পর্দায় তার হাস্যরস কোটি কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করেছে।
১৯৮০ সালে তার প্রথম প্রকাশিত কমেডি অ্যালবাম ‘হাসি কে হাঙ্গামে’ ভারতে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। সুনীল দত্তের ‘দর্দ কা রিস্তা’ সিনেমা দিয়ে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন। সাফল্য আসে ‘বাজিগর’ দিয়ে। শাহরুখ খান ও কাজল অভিনীত আলোচিত এই সিনেমায় ‘বাবুলাল’ চরিত্রে অভিনয় করেন জনি লিভার। ১৯৯৩ সালের শেষের দিকে মুক্তি পায় এটি। জনি লিভারের ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট বলা হয় ‘বাজিগর’ সিনেমাকে।
কখনো কখনো জনি লিভারের অভিনয়কে অনেকের কাছে ভাঁড়ামি বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এটা স্বীকার করতেই হবে, নব্বইয়ের পর থেকে দীর্ঘ সময় বলিউডে কৌতুকের স্থানটি একা হাতে ধরে রেখেছিলেন তিনি। কমেডিয়ানদের ভিড়ে জনি একটু ‘অন্য রকম’।
উনসত্তরের জনি লিভার এখনো অভিনয়ে বেশ সরব। তার অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’। গত ২৬ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এটি। তার অভিনীত মুক্তি প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘গোলমাল ৫’।
