২৪২ রান তাড়ায় ১৫৪ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তান। বড় হারের দিকেই ছিল তারা। এই অবস্থা থেকে অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখল তারা। সেই গল্পের নায়ক শাদাব খান। বাকিদের ব্যর্থতার ভিড়ে আট নম্বরে নেমে তিনি করে ফেলেছেন অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরি। শেষ উইকেটে হারিস রউফকে নিয়ে গড়েছেন জুটির বিশ্বরেকর্ড। চরম নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচ জিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডকে ১ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। বেন ডাকেটের সেঞ্চুরিতে ট্রিকি উইকেটে ২৪১ রানের পুঁজি পেয়েছিল ইংল্যান্ড। ১৭ বল আগে তাদের রান টপকে যায় পাকিস্তান।
অথচ রান তাড়ার ধারেকাছেও ছিল না তারা। শেষ উইকেট জুটিতে ৮০ বলে অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রান করেন হারিস-শাদাব। ওয়ানডে ইতিহাসে সফল রান তাড়ায় শেষ উইকেটে এটাই সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।
৯৬ বলে ১৩ চার, ৫ ছক্কায় ওয়ানডেতে প্রথম সেঞ্চুরি করা শাদাব করেন ১১৩ রান। হারিস ৭ রানে ছিলেন অপরাজিত, তবে মহাগুরুত্বপূর্ণ ১৯ বল সামলান তিনি। বাউন্ডারিতে ম্যাচও শেষ করেছেন এই পেসার।
২৪২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণের তোপে একে একে ফিরে যান শীর্ষ সারির ব্যাটাররা। বাবর আজম, ফখর জামান, সালমান আলি আঘার মতো অভিজ্ঞরা দ্রুত ফিরলে ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
১০৩ রানে যখন ৬ উইকেট পড়ে গেছেন, তখন ক্রিজে আসেন শাদাব। এসেই প্রতি আক্রমণের পথ বাছেন তিনি। তবে তাকে কেউ সঙ্গ দিতে পারছিলেন না
আরাফাত মিনহাস, শাহীন আফ্রিদি, রেজাউল্লার বিদায়ে ১৫৪ রানে যখন ৯ উইকেট পড়ে যায় তখন পাকিস্তানের হারই ছিলো একমাত্র সম্ভাব্য বাস্তবতা। সেই মুহূর্তেই শুরু হয় শাদাব খানের বীরত্বগাথা। একদিকে উইকেটের পতন ঠেকাতে না পারলেও একা হাতে ম্যাচ জয়ের দায়িত্ব তুলে নেন তিনি। অন্য প্রান্তে হারিস রউফ দাঁতে দাঁত চেপে উইকেট আগলে রাখায় ইংল্যান্ডের সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট হয়ে যায়।
শাদাব অবশ্য দলের জয়ের থেকে ২০ রান দূরে থাকতে আউট হয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন, ম্যাচ জেতার আনন্দেও মেতেছিলো ইংল্যান্ড। ৪৫তম ওভারে অ্যাটকিনসনের বলে এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। শাদাবও ভেবেছিলেন আউটই, হতাশায় মাথা নেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। কী ভেবে একদম শেষ দিকে রিভিউ নেন তিনি। আল্ট্রা এজড প্রযুক্তিতে দেখা যায় বল তার পায়ে লাগার আগে ব্যাট স্পর্শ করেছিলো। অতি নাটকীয়ভাবে বেঁচে গিয়ে পরে নায়ক বনেন তিনি।
শেষের রোমাঞ্চকর ক্ষণে শাদাব পৌঁছে যান তার স্বপ্নের শতকে। জয়ের জন্য শেষ ওভারে বাকি থাকা রান তুলে নিতেও ভুল করেননি তারা; রউফের হাঁকানো বাউন্ডারিতে স্মরণীয় জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের।
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ইংল্যান্ডের সূচনাটাও খুব একটা সহজ ছিল না। স্বাগতিক পেসারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ের সামনে শুরুতেই উইকেট হারায় তারা। ৫২ রানে পড়ে ৪ উইকেট। দলের বিপদে প্রান্ত আগলে রেখে চমৎকার এক সেঞ্চুরি উপহার দেন বেন ডাকেট। তার ১১১ বলে ১০৫ রানের ইনিংসে ভর করেই ২৪১ রান তুলতে সক্ষম হয় ইংলিশরা।
