আজকাল ওয়েবডেস্ক: চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার কাঁথি পৌরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সন্দীপ জানা ওরফে ‘ডাকু’। অভিযোগের আঁচ পেয়ে বেশ কিছুদিন গা ঢাকা দিয়েছিলেন।
পরে পুলিশ তাঁর আস্তানা জানতে পেরে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হয়েছেন সিদ্ধেশ্বর প্রধান নামে আরও এক তৃণমূল নেতা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শহর কাঁথি। সেই কাঁথিতে দুই নেতার গ্রেপ্তারিকে ঘিরে কাঁথি শহরে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে।
অভিযোগ, কাঁথির বাঘাঘোল গ্রামের বাসিন্দা তাপস কুমার পালকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। এমনকী, চাকরির নামে সন্দীপ জানা তাঁকে কিছু ভুয়ো নথিও দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত তাপস কুমার পালের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক সন্দীপ জানা ওরফে ডাকুকে আট দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চাওয়া হলে সন্দীপকে বলতে শোনা যায়, ‘পাপের প্রায়শ্চিত্ত করছি।’ বারবার একই কথা বলেন তিনি। সত্যিই কি তিনি পাপ করেছিলেন, এই প্রশ্নের উত্তরে তাঁর মন্তব্য, ‘আগামী দিনে বুঝতে পারবেন।’
তাঁর এই বক্তব্য ঘিরেও শুরু হয়েছে জল্পনা। তবে এই মন্তব্যের ফলে টাকা আত্মসাতের সরাসরি স্বীকারোক্তি ধরা না হলেও স্বীকারোক্তির এটি একটি ইঙ্গিত বলে কেউ কেউ মনে করছেন।
উল্লেখ্য, তৃণমূলের শাসনকালে সন্দীপ জানা অধিকারী পরিবার-সহ শুভেন্দু অধিকারীকে বিভিন্ন সময়ে কটাক্ষ ও আক্রমণ শানিয়ে ছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলে পরিচিতি রয়েছে। এবার চাকরির নামে প্রতারণার অভিযোগে তাঁর গ্রেপ্তারি ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও এই প্রতারণা চক্রে আরও কেউ জড়িত কি না, তা পুলিশি তদন্তেই স্পষ্ট হবে।
