সন্ধ্যা থেকে ঘুরে ঘুরে তিনটি পানশালায় মদ খান। মত্ত অবস্থায় গভীর রাতে বিলাসবহুল মিনি কুপারে চালিয়ে ফিরছিলেন। সঙ্গে ছিল বন্ধুরা। ওই গাড়ির গতি ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার! আর তাতেই বিপত্তি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয় বাইকে। মৃত্যু হয় তিন জনের। সেই ঘটনায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার গভীর রাতে সুহেল সজীব নামে ১৯ বছরের এক তরুণ ওই মিনি কুপারটি চালাচ্ছিলেন। নেদুম্বাসেরির কাছে কোচি বিমানবন্দরগামী রাস্তায় একটি বাঁক ঘোরার সময় ওই গাড়িটি একটি বাইকে ধাক্কা মারে। বাইকটি চালাচ্ছিল ইজাজ নামে এক যুবক। সঙ্গে ছিলেন গোপিকা এবং দেবিকা নামে দুই তরুণী। তিন জনেরই বয়স ২১ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। নিকটবর্তী একটি বেসরকারি সংস্থার তাঁরা কর্মরত ছিলেন। রাতের ডিউটি চলাকালীন চা খেতে বেরিয়েছিলেন। আচমকা পিছন দিক থেকে মিনি কুপার ওই বাইকে ধাক্কা মারে। তিন জনেই ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। তাঁদের বাইকটি গাড়ির সঙ্গে লেগে প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত হেঁচড়ে গিয়েছিল। তার পরে গাড়ি থামান সুহেল।
নেদুম্বাসেরি থানায় এফআইআর দায়ের হয়। পুলিশ আগেই সুহেলকে গ্রেফতার করে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে ওই গাড়িতে সুহেল ছাড়াও ছিলেন নিবান, আমিন এবং জোয়েল নামে তাঁর দুই বন্ধু। সুহেলের পাশাপাশি গ্রেফতার হন নিবানও। অভিযোগ, গাড়ির গতি বাড়ানোর জন্য সুহেলকে প্ররোচনা দিয়েছিলেন তাঁরা। আর বন্ধুদের কথা শুনে গাড়ির গতি বাড়াতে থাকেন সুহেল। কখন যে গতির কাঁটা ১২০ কিলোমিটারের কাঁটা পেরিয়ে গিয়েছে খেয়ালই ছিল না তাঁর। দুর্ঘটনার পর আমিন এবং জোয়েল ঘটনাস্থলে ছেড়ে পালিয়ে যান। সোমবার তাঁদের আলাপ্পুঝা জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃতেরা কোচিতে অন্তত তিনটি পানশালায় যান এবং মদ্যপান করেন। কিন্তু কেরলমে মদ খাওয়ার আইনি বয়সসীমা ২৩ বছর। বেআইনি ভাবে কোন কোন পানশালা তাঁকে মদ দিয়েছে এবং কেন দিয়েছে, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।
