আজকাল ওয়েবডেস্ক: সর্বভারতীয় স্তরে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে নিজেদের যুব সংগঠনকে নতুন করে সাজিয়ে তুলল ভারতীয় জনতা পার্টি। ঘোষিত হল ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার নতুন পূর্ণাঙ্গ জাতীয় কমিটি। আর সেই নতুন কমিটিতেই উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব পেল পশ্চিমবঙ্গ।
যুব মোর্চার সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি পদে নিযুক্ত করা হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের বিজেপি বিধায়ক সৌমেন কার্ফাকে। জাতীয় স্তরে যুব সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বাংলার এক বিধায়কের এই নিয়োগকে রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক গুরুত্বের নিরিখে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সৌমেন। ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি বর্ধমান বিভাগের যুব মোর্চার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। বিধানসভা ভোটে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর এ বার সর্বভারতীয় স্তরে বড় সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হল তাঁকে।
জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের সংগঠনকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যে যুব মোর্চাকে সামনে রেখে নতুন করে ঘর গোছানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিজেপি। দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় যুব সংগঠনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে দলের রাজনৈতিক ভাবনা ও কর্মসূচি পৌঁছে দেওয়া, যুবসমাজকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা এবং বুথস্তর থেকে জাতীয় স্তর পর্যন্ত কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যুব মোর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই লক্ষ্যেই নতুন জাতীয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে যুব সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই নতুন কমিটিতে বাংলার সৌমেন কার্ফার অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের বিজেপি বিধায়ক হিসেবে পরিচিত সৌমেন এবার থেকে জাতীয় স্তরে যুব মোর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাবেন। সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্বের পরিধি রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে। ফলে বাংলার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা জাতীয় স্তরে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হল তাঁর সামনে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুব সংগঠনের জাতীয় কমিটিতে কোনও রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব শুধু পদপ্রাপ্তির বিষয় নয়, সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে যুব সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা বিজেপির কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে জাতীয় কমিটিতে বাংলার প্রতিনিধির গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ রাজ্য সংগঠনের কাছেও বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে।
যুব মোর্চার কাজের অন্যতম ক্ষেত্র হল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, প্রথমবারের ভোটার এবং কর্মসংস্থান-সহ বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহী যুবসমাজের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মসূচি তুলে ধরা, দলের সাংগঠনিক আন্দোলনে যুব কর্মীদের সক্রিয় করা এবং সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচারেও যুব সংগঠনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
