ড. মুহাম্মদ ইউনূস
-->সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে বলা রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর গতকাল সোমবার ১৫ ও ৩২ পৃষ্ঠার পৃথক রায় দুটি প্রকাশিত হয়েছে। গ্রামীণ টেলিকমের কাছ থেকে পাওয়া অর্থকে ‘লভ্যাংশ’ বা ডিভিডেন্ড হিসেবে দেখিয়ে সরকারকে ন্যায্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করতে গ্রামীণ কল্যাণ চেষ্টায় কোনো কমতি রাখেনি বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বেঞ্চের নেতৃত্ব দেওয়া বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া রায় দুটি লেখেন এবং এর সঙ্গে একমত পোষণ করেন অপর বিচারপতি রেজাউল করিম। রায় দুটির একটিতে আদালত লিখেছেন, ‘আমরা রুলটিতে বিন্দুমাত্র (iota) মেরিট দেখছি না, যা বাতিলযোগ্য।’ আরেকটি রায়ে লেখা হয়েছে, ‘সব মিলিয়ে আমরা কোনো প্রকার অবৈধতার লেশমাত্র খুঁজে পাইনি, যা আমাদের হস্তক্ষেপের যৌক্তিকতা তৈরি করে।’
আরও পড়ুন
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে রায় দেন হাইকোর্ট। এ-সংক্রান্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে ওই রায়টি দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত। আদালতে ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা দেওয়ার রায় স্বতঃপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় প্রত্যাহার করেন। নিয়ম অনুযায়ী সেই সঙ্গে প্রধান বিচারপতির কাছে এ মামলার নথি পাঠানো হয়।
পরে নতুন বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য পাঠানো হয়। পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭–এই ৫ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট দায়ের করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল দেন। ওই রুল খারিজ করে রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।
ফলে রিট খারিজ হওয়ায় আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ওই অর্থ আদায় করতে পারবে এনবিআর বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। অর্থাৎ ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে।
