মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয়বার অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন একদল ভর্তিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে নিজেদের যুক্তি ও প্রস্তাব সরাসরি তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে নির্দিষ্ট নম্বর কর্তন, বয়সসীমা বা অন্যান্য যৌক্তিক শর্তের মাধ্যমে তৃতীয়বার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে লেখা এক আবেদনে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয়বার অংশগ্রহণে ইছুক শিক্ষার্থীবৃন্দ। বর্তমানে এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ সর্বোচ্চ দুইবারে সীমাবদ্ধ থাকায় প্রতিবছর অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থীরা অতি সামান্য (ভগ্নাংশমাত্র) নম্বরের ব্যবধানে তাদের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পারিবারিক সংকট, চরম মানসিক চাপ, আকস্মিক আর্থিক অসুবিধা, রাস্তার জ্যাম কিংবা পরীক্ষার দিন শারীরিক অসুস্থতার মতো অনিবার্য কারণ অনেক সময় একজন যোগ্য শিক্ষার্থীর প্রকৃত সক্ষমতাকে প্রথম বা দ্বিতীয় চেষ্টায় প্রতিফলিত হতে দেয় না।
তৃতীয়বার সুযোগ প্রদানে তাদের যুক্তিগুলো হলো- পার্শ্ববর্তী ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকার পাশাপাশি উন্নত বিশ্বের যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডার শিক্ষার্থীরা বহুবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
মেডিকেল কলেজে ভর্তির পর কোনো একাডেমিক পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে সাপ্লিমেন্ট ও রিসাপ্লিমেন্ট এর মাধ্যমে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ থাকে এবং সর্বোচ্চ ১২ বছরের মধ্যে এমবিবিএস সম্পন্ন করা যায়। এমনকি এফসিপিএস এর মতো উচ্চতর ডিগ্রির ক্ষেত্রেও পার্ট-১ পরীক্ষায় অন্তত ১২ বার অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
চিকিৎসক এবং নার্স ভর্তি প্রক্রিয়ায় নীতিগত সামঞ্জস্যতা তৈরি ও দ্বৈততা পরিহার। বর্তমানে একই স্বাস্থ্যখাতের অধীনে নার্সিং ভর্তি পরীক্ষাতেও তৃতীয়বর অংশগ্রহণের সুযোগ বিদ্যমান। একই দেশের একই স্বাস্থ্যখাতে নার্সিং শিক্ষার্থীদের জন্য যে সুযোগ উন্মুক্ত, ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে তা কেন প্রযোজ্য হবে না?
আবেদনে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, যে শিক্ষার্থী দুইবার ব্যর্থতার পরও মেডিকেলে পড়ার চেষ্টা চালিয়ে যায়, তার মানসিক দৃঢ়তা, অধ্যবসায় এবং এই পেশার প্রতি ভালোবাসা প্রশ্নাতীত। সরকার এই ধরনের শিক্ষার্থীদের সুযোগ দিলে দীর্ঘমেয়াদে দেশ অত্যন্ত দক্ষ, ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল চিকিৎসক পাবে।
এছাড়া ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কতবার অংশগ্রহণ করা যাবে, এমন কোনো সীমা নির্দিষ্ট ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তারা।
