৩৫ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ৩৫ মিনিট আগে
স্টার অনলাইন ডেস্ক
ফ্রান্সের অরলিন্স শহরে বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি
বিধিনিষেধের মধ্যেই জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সে ফের বিক্ষোভ শুরু করেছে শ্রমিক ইউনিয়নসহ শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিভিন্ন সংগঠন। দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলাকালে ১৩৫ জনকে গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র জব্দ করে দেশটির পুলিশ।
আজ শনিবার বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে ছিল ধাতব বল, সিসার গুলি, আতশবাজি, গুলতি, স্টিলের বল, দেশীয়ভাবে তৈরি অস্ত্র, একটি কাতানা (জাপানি তলোয়ার) এবং এয়ারসফট অস্ত্র।
তবে এখন পর্যন্ত ‘বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি’ বলে জানান তিনি। এর আগে সহিংসতা ঠেকাতে সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর ৭০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়।
🇫🇷#France has implemented heavy security measures ahead of new protests Saturday, with police, helicopters and armoured vehicles as well as bans on certain #protests and local curfews seeking to prevent a repeat of the violence and looting which erupted during nationwide demonstrations last weekend. The restrictions, including outright bans on protests in some cities, have drawn criticism. To learn more, watch here ⤵️
— FRANCE 24 English (@France24_en) October 24, 2026
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর লিওঁতে ‘বিক্ষোভ নিষিদ্ধ’ এমন একটি এলাকায় প্রায় দেড়শ মানুষ জড়ো হন। এক পর্যায়ে তারা স্থানীয় একটি পুলিশ স্টেশনের কাছে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। ঘটনাস্থলে সাঁজোয়া যান ও দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভ শুরুর পরপরই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে ইয়েলো ভেস্টস সংগঠন।
তারা আগামী ৩১ অক্টোবর শনিবার সংসদ ভবনসহ দেশজুড়ে সিটি হলগুলোর সামনে সমাবেশ এবং অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।
আট বছর আগে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর বিরুদ্ধে সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আলোচনায় আসা এ সংগঠনটি জানায়, তারা পুলিশের নির্দেশ মানবে না।
এদিকে প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভ শুরুর আগ মুহূর্তে শ্রমিক ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোকে মিছিলের স্থান পরিবর্তনের নির্দেশ দেয় পুলিশ। রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে মিছিলটি সরিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে পোর্তে দ্য ইতালি এলাকায় নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, প্যারিসের দক্ষিণে ওর্লেয়াঁ শহরে লা পেনের নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র্যালির (আরএন) বার্ষিক সম্মেলনের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ করেছে অন্তত ১১ হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাখোঁ ও বিরোধী দলীয় নেত্রী লা পেন—দুজনেরই সমালোচনা করেন।
এ সম্মেলন থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারাভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে লা পেনের।
গত সপ্তাহে দেশজুড়ে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও লুটপাটের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার আগেই নিরাপত্তা জোরদার করেছে সরকার। ৭০ হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে হেলিকপ্টার ও সাঁজোয়া যান। এছাড়া, জাদুঘরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বন্ধ, বিভিন্ন শহরে বিধিনিষেধ আরোপ এবং কিছু এলাকায় স্থানীয়ভাবে কারফিউও জারি করা হয়েছে।
