সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। উপসাগরীয় দেশগুলোতে সফরের শেষ পর্যায়ে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির বাইরে আকস্মিকভাবে সৌদি আরব সফরে গেছেন তিনি। সৌদি ভূখণ্ডে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলা জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে তাঁর এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) মাখোঁর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রতি ফ্রান্সের সংহতি প্রকাশ এবং দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করাই এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। হুতিদের হামলার মুখে সৌদি আরব সফরকারী প্রথম পশ্চিমা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মাখোঁর এই সফরকে উল্লেখ করেছে তাঁর দপ্তর।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই কাতার থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। এর মধ্য দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারকে ঘিরে তাঁর উপসাগরীয় সফরের সমাপ্তি ঘটছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জ্বালানি সরবরাহের বিষয়গুলো তাঁর এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
সৌদি সফরে দেশটির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে মাখোঁর বৈঠক করার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, জ্বালানি সহযোগিতা এবং চলমান আঞ্চলিক সংকট নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
মাখোঁর দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির প্রতি ফ্রান্সের সমর্থন ও সংহতি জানানো এই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং জ্বালানির উৎসের বৈচিত্র্য বাড়ানোর প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখতে চায় প্যারিস।
সম্প্রতি আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ফ্রান্স। সফরকালে মাক্রোঁ জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার বিষয়টিও তাঁর আলোচনায় এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের সঙ্গে ফ্রান্সের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সফরের পর দুই দেশের মধ্যে কী ধরনের নতুন সিদ্ধান্ত বা সমঝোতা হবে, তা নির্ভর করবে বৈঠকের ফলাফল ও পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
-20261021141406.jpg&w=1440&q=75)