বৈশ্বিক সাইবার হামলার ঝুঁকির কারণে বন্ধ রাখার পরও রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট হ্যাকারের কবলে পড়েছে। এ রিপোর্ট লেখার সময় আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি সচল করা সম্ভব হয়নি।
তবে আজকের মধ্যে ওয়েবসাইটটি সচল করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন জনতা ব্যাংকের আইটি বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, ‘ওয়েবসাইটে দুটো অ্যাটাকের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সেগুলো ঠিকঠাক করতে সময় লাগছে। আশা করা যায়, আজকের মধ্যেই সচল করা সম্ভব হবে।’
এদিকে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদ শূন্য থাকায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ১৯ অক্টোবর দিন শেষে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমানের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার। পরদিন থেকে পূজার ছুটি উপলক্ষে সরকারি দপ্তরসহ ব্যাংক খাতে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শুরু হয়।
বৈশ্বিক সাইবার হামলার ঝুঁকির কারণে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গত বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়। পাঁচ দিনের ছুটি শেষে রোববার ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট চালু করা হলেও জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট সচল করা যায়নি।
বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এনিসা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
গত ২১ অক্টোবর প্রকাশিত যৌথ সতর্কবার্তায় সংস্থাগুলো জানায়, নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা আক্রান্ত সার্ভারে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে। দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ করা সম্ভব না হলে ঝুঁকিতে থাকা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনগুলো সাময়িকভাবে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এই সতর্কবার্তার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেয়। রোববার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের ওয়েবসাইট সচল ছিল।
