‘এত ভয় দেখাবেন না, যাতে ভয় পাওয়ারই কিছু না থাকে’—পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পরদিন সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করে বললেন বলিউড অভিনেতা আমির খানের ভাইঝি, অভিনেত্রী জেন মেরি। তার সঙ্গে আটক হয়েছিলেন আমির খানের ভাগ্নে অভিনেতা ইমরান খান ও অভিনেত্রী লেখা ওয়াশিংটনও।
পুলিশের ভ্যানে তোলা হচ্ছে ইমরান খান, লেখা ওয়াশিংটন ও জেন মেরিকে। আটকের সেই মুহূর্ত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পান তারা। তবে ঘটনার রেশ কাটেনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) নিজের শরীরে কালশিটে আঘাতের দাগ দেখিয়ে নতুন করে আলোচনায় এলেন জেন মেরি। ভিডিওতে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এতটা ভয় দেখাবেন না, যাতে ভয় পাওয়ার আর কিছুই অবশিষ্ট না থাকে।’
ভিডিওতে জেনের হাত, আঙুল ও পায়ে আঘাতের দাগ দেখা যায়। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘ইন্টারনেটে রাষ্ট্রের মুখোশ খুলে দেয় সে।’ এর আগেও ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আটকের নানা মুহূর্ত তুলে ধরেছিলেন এই অভিনেত্রী। তার সঙ্গে সেদিন কী ঘটেছিল, তা জানিয়েছেন ইমরান ও লেখা ওয়াশিংটনও।
কেন আটক হয়েছিলেন তারা?
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) মুম্বাইয়ে বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন তিন অভিনেতা। তাদের বিক্ষোভের উদ্দেশ্য ছিল ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলা। কক্রোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত এই আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ।
জেনের দাবি, আটক করার পর তাদের কোথায় নেওয়া হচ্ছে, তা জানানো হয়নি। পরে ইয়েলো গেট থানায় নিয়ে যাওয়া হলে তারা পুলিশের কাছে জানতে চান, কেন তাদের আটক করা হয়েছে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে জেন বলেন, ‘আমি তাকে বারবার জিজ্ঞেস করছি, কেন আমাদের আটক করা হয়েছে। তার নিজেরও এ বিষয়ে কোনো ধারণা নেই। তিনি শুধু বলেন, “দুই মিনিট”, তারপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে ব্যস্ত থাকেন।’
অন্য বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ করা ভিডিওতেও ইমরানকে পুলিশের কাছে আটকের কারণ জানতে চাইতে দেখা যায়। তার অভিযোগ, কোনো কারণ না জানিয়েই তাদের প্রায় দুই ঘণ্টা পুলিশের ভ্যানে ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তারা প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চলে গেলে ইমরান তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘জয় হিন্দ!’
মুক্তির পরও ভোগান্তির অভিযোগ
কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেলেও স্বস্তি মেলেনি বলে দাবি করেছেন অভিনেত্রী লেখা ওয়াশিংটন। শনিবার রাতে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তিনি জানান, তারা নিরাপদে বাড়ি ফিরেছেন। পরে আরেকটি স্টোরিতে বাড়িতে ফিরে ইমরান ও জেনকে জড়িয়ে ধরতেও দেখা যায় তাকে।

তবে বাড়ি ফেরার পথটাও সহজ ছিল না বলে অভিযোগ লেখার। তার দাবি, মুক্তির পর বাড়ি যাওয়ার জন্য গাড়ি পাচ্ছিলেন না তারা। পুলিশের ভয়ে তাদের নিতে রাজি হওয়া চালকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে মুম্বাই পুলিশের কোনো বক্তব্য সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
পুলিশের ভ্যানেও ফিরল ইমরানের পুরোনো সিনেমার স্মৃতি
আটকের মতো উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার মধ্যেও পুরোনো সিনেমার প্রসঙ্গ তুলে রসিকতার সুযোগ খুঁজে নেন জেন ও ইমরান। পুলিশের ভ্যানের ভেতরে ইমরানকে নিয়ে একটি মজার ভিডিও প্রকাশ করেন জেন। সেখানে উঠে আসে ইমরানের ২০০৮ সালের অভিষেক সিনেমা ‘জানে তু... ইয়া জানে না’র প্রসঙ্গ।
আব্বাস তিরেওয়ালা পরিচালিত ওই রোমান্টিক কমেডিতে ইমরানের অভিনীত জয় রাঠোর চরিত্রটিকে সত্যিকারের ‘রাঞ্জোর কা রাঠোর’ হতে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হতো—ঘোড়ায় চড়া, জেলে যাওয়া এবং কাউকে মারধর করা। সেই প্রসঙ্গ ধরেই জেন ইমরানকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কখনো ঘোড়ায় চড়েছেন, জেলে গেছেন কিংবা কাউকে মারধর করেছেন কি না।
হেসে ইমরান জানান, ঘোড়ায় চড়েছেন ঠিকই, তবে বাস্তব জীবনে কাউকে মারধর করেননি। এবার আটকের পর জেলে যেতে হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন তিনি। মুচকি হেসে বলেন, ‘হো সকতা হ্যায়’—হতেও পারে।
এদিকে পুলিশের ভ্যানের ভেতরে নিজের একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন ইমরান। ছবির ক্যাপশনে লেখেন, ‘মনে হচ্ছে, গাড়িতে করে ঘুরতে যাচ্ছি।’ পরে সেই ছবির সঙ্গে তার অভিনীত ‘গোরি তেরে পেয়ার মে’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘ধত তেরি কি, ম্যায় ঘর নেহি জানা’ জুড়ে তৈরি একটি মিমও শেয়ার করেন জেন।
তবে, আটক হওয়ার পর শরীরে আঘাতের দাগ দেখিয়ে জেন মেরির এই ভিডিও প্রকাশের ঘটনা তাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে দাগগুলো কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে তার পোস্টের বাইরে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সব মিলিয়ে, ভারতের বিনোদন অঙ্গন যে পুলিশি হামলা-হেনস্তার বাইরে নয়, তার দৃষ্টান্ত এই ঘটনাবলী।
এনডিটিভি থেকে অনুদিত
ডিএ
