Published on
:
2 min read
পাকিস্তানের ভূয়সী প্রশংসা করলেন কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের জন্যই কাশ্মীরিরা বেঁচে আছেন। এই প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারকেও আক্রমণ করেন তিনি। শনিবার বারামুল্লার একটি সভায় ফারুক বলেন, ‘ভারত সরকারের যা মানসিকতা তাতে প্রতিবেশী দেশ না থাকলে কাশ্মীরিদের অস্তিত্ব থাকত না।’ এর পরেই কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করে বিজেপিও।
কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ় শরিফকে ‘রক্ষাকর্তা’ আখ্যা দিয়ে এ দিন ফারুক বলেন, ‘তিনি (পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ় শরিফ) সর্বত্র গিয়ে বলেছেন, কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হয়নি। তিনিই আমাদের রক্ষা করছেন। না হলে ওদের (কেন্দ্রীয় সরকার) উদ্দেশ্য ভালো নয়।’
কেন্দ্রের কাছ থেকে কাশ্মীরের মানুষ ন্যায়বিচার আশা করতে পারেন কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন ফারুক। তাঁর কথায়, ‘দিল্লির কাছ থেকে কী আশা করেন? আপনারা কি মনে করেন, ওরা ন্যায়বিচার দেবে?’ নিজের অধিকার ও পরিচয় রক্ষার জন্য আম কাশ্মীরিকে লড়াইয়ের জন্য উস্কানিও দেন তিনি। ফারুকের কথায়, ‘লড়াই করার সাহস রাখুন। না হলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। আপনাদের পরিচয়ও হারিয়ে যাবে।’
ফারুকের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের বিজেপি সভাপতি সত শর্মা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফারুক আবদুল্লার বোঝা উচিত, এই দেশে তিনি যা ইচ্ছা বলার স্বাধীনতা পেয়েছেন। তাই এই মন্তব্য করতে পেরেছেন। পাকিস্তানে বললে রেহাই পেতেন না।’ জম্মু ও কাশ্মীরের মুসলিমরা ভারতে নিরাপদ বলেও দাবি করেন সত। তাঁর সাফ কথা, ‘ভারতের সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা চান। না হলে আপনার পাকিস্তানে চলে যাওয়াই ভালো।’
রাষ্ট্রপুঞ্জ, অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশন (OIC)-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর ইস্যুতে সরব হয়েছে পাকিস্তান। তাদের দাবি, কাশ্মীরে দমনপীড়ন চালাচ্ছে ভারতীয় সেনা। তবে নয়াদিল্লি বরাবরই এই দাবির বিরোধিতা করে এসেছে। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, ‘কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এতে পাকিস্তানের নাক গলানো উচিত নয়।’ তবে ফারুকের এই দিনের মন্তব্যকে পাকিস্তান হাতিয়ার করতে পারে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
