দেশের প্রান্তিক, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে সুনির্দিষ্ট তথ্যভান্ডারের আওতায় এনে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে অবহিতকরণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পৌরসভা মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
তিনি জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি করে যোগ্য পরিবারগুলোকে সহায়তার আওতায় আনা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে দেশের আটটি বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে ৭১ হাজার ৮৩১টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয় বলে জানানো হয়।
৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা, সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের জুলাই থেকে ফ্যামিলি কার্ডের মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে বলেও জানানো হয়।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষায়িত নেটওয়ার্ক-সংযুক্ত ট্যাবলেটের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কারা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতার সুবিধা? সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতি অনুযায়ী পরিবারগুলোকে অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
নীতিমালার তথ্য অনুযায়ী, ৮৬০ বা তার কম পিএমটি স্কোর পাওয়া নারী পরিবারপ্রধানেরা ভাতা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। নারী পরিবারপ্রধানদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও ভাতার সুবিধা পাবেন অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত শ্রেণির যোগ্য পরিবারগুলো। স্মার্ট কার্ডে থাকছে আধুনিক প্রযুক্তি, ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। এসব কার্ড সরকারের নিজস্ব ‘টাকাপে’ পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়।
এর ফলে উপকারভোগী নারীরা এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) টার্মিনাল এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতার অর্থ উত্তোলনের সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান। উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন পলাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করা হয়। পাশাপাশি প্রকৃত তথ্য দিয়ে তথ্য সংগ্রহকারীদের সহায়তা করতে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
The post সাতকানিয়ায় স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু appeared first on ভোরের চেতনা.
