দাউদকান্দিতে সুন্দলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির
চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে আর্থিক অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার সুন্দলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি।
‘নয়নের আলোয় আলোকিত হোক জীবন’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়। এতে ১২ জন চিকিৎসকের মাধ্যমে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ছানি অপারেশনের উপযুক্ত রোগীদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার ও লেন্স সংযোজনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সুন্দলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ শিবিরের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ এম এ লতিফ ভূঁইয়া। শিবিরটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল আলম সরকার।
শুক্রবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ চোখের চিকিৎসা নিতে আসছেন। চিকিৎসকেরা রোগীদের চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ ও আই ড্রপ দিচ্ছেন। যাঁদের ছানি অপারেশন প্রয়োজন, তাঁদের তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। পরে তাঁদের গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়া, অস্ত্রোপচার শেষে আবার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোগীদের যাতায়াত, অস্ত্রোপচার ও লেন্স সংযোজনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যয় বিনামূল্যে বহন করা হবে।
প্রধান অতিথি এম এ লতিফ ভূঁইয়া বলেন, সুন্দলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ধরনের উদ্যোগ দেখে তিনি আনন্দিত। মফস্বল এলাকায় এমন আয়োজন স্থানীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যাঁরা চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন না, তাঁদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। এ উদ্যোগের জন্য ডা. মাহবুবুল আলম সরকার বুলুকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শিবিরের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মাহবুবুল আলম সরকার বলেন, “এ আয়োজনে যেসব রোগীর ছানি অপারেশনের প্রয়োজন হবে, তাঁদের অস্ত্রোপচারসহ যাবতীয় ব্যয় আমরা বিনামূল্যে বহন করব। রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক আয়োজন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।”
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা জানান, বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধ পাওয়ায় তাঁরা উপকৃত হচ্ছেন। বিশেষ করে ছানি অপারেশনের জন্য যাঁদের তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে, তাঁদের জন্য হাসপাতালে যাতায়াত এবং অস্ত্রোপচার শেষে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা থাকায় চিকিৎসা নেওয়া আরও সহজ হচ্ছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে যাঁদের পক্ষে চোখের চিকিৎসা করানো কঠিন, তাঁদের জন্য এ উদ্যোগ নতুন সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আয়োজনে বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় শিক্ষক, সাংবাদিক, প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সার্বিক সহযোগিতা করছেন। আয়োজকদের ভাষ্য, স্থানীয় মানুষের কাছে চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং আর্থিক অসচ্ছল রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
