মাঠে প্রতিপক্ষকে হারানোর প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু মাঠের বাইরের সংঘাতই শেষ পর্যন্ত বদলে দিল খেলার হিসাব। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে দেশটির ফুটবলে। নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনার বিষয় বিবেচনায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আল নাসরের ম্যাচসহ সৌদি প্রো লিগের (এসপিএল) তিনটি ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে!
সৌদি প্রো লিগ কর্তৃপক্ষ গত রাতে নিজেদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে ম্যাচগুলো পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। বিবৃতিতে অবশ্য সরাসরি যুদ্ধ পরিস্থিতিকে স্থগিতাদেশের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বরং ম্যাচগুলোর মধ্যে বাধ্যতামূলক ন্যূনতম বিশ্রামের সময় নিশ্চিত করা এবং আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
স্থগিত হওয়া তিন ম্যাচের মধ্যে রয়েছে আল হিলাল-আল রিয়াদ, আল ইত্তিহাদ-আল শাবাব এবং আল নাসর-আল আহলি। লিগের নবম রাউন্ডের সূচিতে থাকা আল হিলাল ও আল রিয়াদের লড়াইটি আগামী ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে মাঠে গড়াবে আল ইত্তিহাদ ও আল শাবাবের ম্যাচও।
তবে সবচেয়ে বেশি অপেক্ষা করতে হবে রোনালদো ও তার দল আল নাসরের সমর্থকদের। আল নাসর-আল আহলি ম্যাচটির নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ৬ মার্চ। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ম্যাচটি পিছিয়ে গেছে বেশ কয়েক মাস।
অবশ্য নবম রাউন্ডের বাকি ম্যাচগুলো নিয়ে আপাতত কোনো পরিবর্তনের ঘোষণা নেই। লিগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেগুলো ১৫ অক্টোবর থেকে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
সৌদি ফুটবলে সংঘাতের প্রভাব অবশ্য তিন ম্যাচ স্থগিতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগেও নিরাপত্তাজনিত কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে আল নাসরের ম্যাচ। গত সোমবার রিয়াদে উজবেকিস্তানের নেফচি ফারগানার বিপক্ষে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর শুরু হয়।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ওই সময় রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা হুতি বিদ্রোহীদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ম্যাচ শুরুর সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ মাঠের লড়াইয়ের মধ্যেও তখন বড় হয়ে উঠেছিল নিরাপত্তার উদ্বেগ।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় ১৩ জন নিহত হন। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।
২০১৫ সালের পর সৌদি আরবে এটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। সেই ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সৌদি আরবের ফুটবল এখন আন্তর্জাতিক তারকাদের উপস্থিতি, বড় বিনিয়োগ ও উচ্চাভিলাষী আয়োজনের কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনায়। কিন্তু মাঠের বাইরের যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখিয়ে দিল, তারকাখচিত লিগও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবের বাইরে নয়। রোনালদোর মতো বিশ্বসেরা ফুটবলারের ম্যাচও যেখানে অনিশ্চয়তায় পড়ে, সেখানে সৌদি ফুটবলের সামনে এখন বড় প্রশ্ন-কবে ফিরবে স্বাভাবিক খেলার পরিবেশ?
