শুধু ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়। মাদকমুক্ত অযোধ্যা পাহাড় গড়তে পুজোর পর থেকেই অযোধ্যা হিলটপে ফুটবল একাডেমি চালু করছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। দীর্ঘ বাম আমল থেকে তৃণমূল জমানায় এই এলাকার তরুণ-তরুণীদের অতি বামপন্থার বিপথে পরিচালিত হওয়া রুখতে বারে বারে ফুটবলকেই ব্যবহার করেছে পুলিশ। এবারও নেশামুক্ত অযোধ্যা পাহাড় গড়তে পুলিশের অস্ত্র সেই ফুটবলই। আর এই কাজের ব্যাপ্তিতে পুজোর পরে জেলাজুড়ে থানায় থানায় ফুটবল টুর্নামেন্ট হবে। আর তার ফাইনাল হবে এই অযোধ্যা পাহাড়েই।
বুধবার মাদকমুক্ত অযোধ্যার কর্মসূচিতে একদিনের ফুটবল টুর্নামেন্ট শেষে অযোধ্যা হিলটপে দাঁড়িয়ে এই কথা ঘোষণা করেন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ। তিনি বলেন, “এই অ্যাকাডেমি চালুর জন্য সমস্ত অর্থনৈতিক সহায়তা করবে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। খেলোয়াড়দের বুট-সহ সবকিছু খরচ দেবো আমরা। আপাতত পুরুলিয়া বেলগুমা পুলিশ লাইনে বেশ কয়েকজন কনস্টেবল রয়েছেন যারা ফুটবলে দক্ষ এবং পারদর্শী। তাদেরকে দিয়ে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরবর্তীকালে যারা রাজ্য স্তরে খেলেছেন বা জাতীয় স্তরে খেলার অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন তাদেরকে দিয়েও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো আমরা।”
অর্থাৎ মাদকমুক্ত পাহাড় গড়তে একদিকে যেমন সচেতনতার কর্মসূচি। তেমনই বাঙালির প্রিয় ফুটবলকে সামনে রেখে নেশা থেকে দূরে রাখা। এছাড়া আইনি পথে কড়া পদক্ষেপও নেবে পুলিশ। যারা এই মাদক করবারে যুক্ত থাকবে তাদের সম্পত্তি পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হবে। যা আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। সেই সঙ্গে এই পাহাড়ের তরুণদের আয়ের বন্দোবস্ত করে দিতে গাইডের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও ভাবছে। এদিন এই টুর্নামেন্টে অতিথি হিসাবে আসা সমাজসেবী শঙ্কর মাহাতো উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দেন শরীর সুস্থ রাখতে নেশা থেকে দূরে থাকা উচিত। এই অনুষ্ঠানে ছিলেন জয়পুরের বিধায়ক বিশ্বজিৎ মাহাতো। এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় অযোধ্যা হিলটপ ফুটবল ক্লাব। তারা ২-০ গোলে উসুলডুঙরি ফুটবল ক্লাবকে হারিয়ে দেয়। ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট হন সামন্ত বেসরা।
