গোলাম আযমের অবদান জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে বলে জানিয়েছেন জামায়াত আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার রাতে গোলাম আযমের ১২তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা জানান।
জামায়াত আমীর বলেন, বিশ্বনন্দিত ইসলামী চিন্তাবিদ, অসংখ্য বইয়ের লেখক, ইসলামী আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমকে বাংলার এ জমিনে পাঠিয়ে মহান আল্লাহ দ্বীনের দাওয়াতকে প্রসারিত করার দায়িত্ব পালন করিয়েছেন। শত প্রতিকূলতা, বাধা-বিপত্তি ও জুলুমের শিকার হয়ে মাথানত না করে তিনি দাঈ হিসেবে জীবনকাল অতিক্রান্ত করেছেন। মহান আল্লাহ তাআলার কাছে ফরিয়াদ করছি—তার পরিচালিত সমস্ত ভালো প্রচেষ্টাগুলোকে কবুল করে এবং ভুলত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমীন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তার জীবনকালটি ছিল শিক্ষার ও বর্তমান সময়ের জন্য গবেষণার। তিনি রাজনৈতিক জীবনে মানুষের অধিকার আদায়ে ছিলেন সোচ্চার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন আপসহীন আর বাতিলের জন্য ছিলেন চ্যালেঞ্জের। নিজের বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন, রাজনৈতিক জীবন ও পেশাগত জীবনে তিনি সেই স্বাক্ষর রেখে গেছেন, রয়েছেন অনুস্মরণীয় হিসেবে। ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ, দেশ গঠনে তার অবদানকে জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
তিনি বলেন, নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় তিনি ছাত্রজীবনে ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) নির্বাচিত হয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি তমদ্দুন মজলিসে যোগ দিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান এবং বর্তমান বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও মানোন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে ফ্যাসিস্ট স্বৈরশাসক ও তাদের দোসরদের শত অত্যাচার-নির্যাতন, অপবাদ সহ্য করেছেন ইসলামী আন্দোলনের মজলুম দাঈ অধ্যাপক গোলাম আযম।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফর্মুলা’র রূপকার অধ্যাপক গোলাম আযম। বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তিনি ১৯৮৩ সালে সর্বপ্রথম এ ফর্মুলা উপস্থাপন করেন। ১৯৯৬ সালে তার পূর্বেকার প্রস্তাবমতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সংবিধানে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফর্মুলা’ সংযোজন করেন। তার প্রণীত এই ফর্মুলা শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ পৃথিবীর অনেক দেশ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযমের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমৃদ্ধ হয়েছে, উপমহাদেশে বিশেষ করে বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের উর্বর ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে। তিনি ১৯৫৪ সালের এপ্রিলে জামায়াতে ইসলামীতে সহযোগী (মুত্তাফিক) হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৫ সালের জুন মাসে তিনি রাজশাহী বিভাগীয় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নিযুক্ত হন। এর এক বছর পর তাকে পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এবং রাজশাহী বিভাগীয় জামায়াতের আমীরের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। ১৯৬২ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯-৭১ সেশনে তিনি জামায়াতে ইসলামী পূর্ব পাকিস্তানের আমীর নির্বাচিত হন। সবশেষ ২০০০ সালের ডিসেম্বরে মজলিসে শূরার কাছে বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমীরে জামায়াতের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি লাভ করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযম দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কারাভোগের সময়কাল ও জুলুমের শিকার হওয়ার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ৯২ বছরের জীবনে তিনি ৫ বার কারাভোগ করেছেন। ভাষা আন্দোলনের সময় দুইবার, ১৯৬৪ সালে একবার, ১৯৯২ সালে। সর্বশেষ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ শাসনের সময় ২০১২ সালের ১১ জানুয়ারি তিনি গ্রেপ্তার হন। প্রিজন সেলে থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে অনন্ত সুন্দর জীবনে চলে গেছেন এ দাঈ।
