ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ‘খুব খারাপ আচরণ’ করছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের সংঘাতের কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
গতকাল ১৩ অক্টোবর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “হুথিরা খুব খারাপ আচরণ করছে। সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম বাড়ছে, এদিকে সামনেই মধ্যবর্তী নির্বাচন।”
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে সে কথাই উল্লেখ করেছেন তিনি।
একই সঙ্গে হুথিদের সতর্কবার্তাও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মঙ্গলবারের পোস্টে তিনি বলেন, “নির্বাচনের পর আমি ব্যাপারটা দেখব। আর একটা কথা—আমি এটা কখনো ভুলব না।”
গত ৭ সেপ্টেম্বর হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত শুরু হয়। এরপর গত ৩৭ দিনে হুথিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার, পাইপলাইন, গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে অন্তত দুই ডজন বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় গত এক মাসে সৌদি আরবে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও তিন শতাধিক মানুষ।
হুথিদের সঙ্গে সংঘাতের শুরুর দিকে সৌদি আরবের প্রধানমন্ত্রী ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে বিমান অভিযানে সহায়তা চেয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন।
গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় অবশ্য ট্রাম্প জানিয়েছেন, সৌদি আরবের স্বার্থ রক্ষায় হস্তক্ষেপ করার জন্য তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে ‘অনুরোধ করতে পারেন’।
“আমার ধারণা, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান আমার অনুরোধ রাখবেন,” সাংবাদিকদের বলেন ট্রাম্প।
ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণকারী হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের ২০১৪ সাল থেকে সংঘাত চলছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত আট মাস ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যে এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এরই মধ্যে হুথিরা লোহিত সাগর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা জোরদার করেছে।
নতুন করে শুরু হওয়া এসব হামলা বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ও নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এর ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও সৃষ্টি হয়েছে।
