ইসলামে মসজিদ অত্যন্ত সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান। আল্লাহ তাআলা মসজিদকে নিজের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন এবং মসজিদ আবাদকারীদের প্রশংসা করেছেন। তাই মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা ও পরিবেশের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।
১. মসজিদ আবাদকারীদের প্রশংসা
আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ ۖ فَعَسَىٰ أُولَٰئِكَ أَنْ يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ
‘আল্লাহর মসজিদসমূহ তো তারাই আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। আশা করা যায়, তারাই হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সুরা আত-তাওবা: আয়াত ১৮)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, মসজিদের প্রকৃত আবাদ কেবল এর ভবন নির্মাণ বা বাহ্যিক উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ইমান, ইবাদত ও আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে মসজিদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করাও এর অন্তর্ভুক্ত। তাই মসজিদের পবিত্রতা যথাযথ রক্ষা করা জরুরি।
২. আল্লাহর নির্দেশনাবলির প্রতি সম্মান প্রদর্শন
আল্লাহ তাআলা বলেন—
ذَٰلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ
‘এটাই বিধান। আর কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে সম্মান করলে, তা তো তার অন্তরের তাকওয়ারই বহিঃপ্রকাশ।’ (সুরা আল-হাজ্জ: আয়াত ৩২)
মসজিদ আল্লাহর ইবাদতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এর পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষা করা আল্লাহভীতির পরিচয়। সুতরাং মসজিদের সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং মসজিদের পরিবেশকে অনুপযুক্ত ব্যবহার থেকে রক্ষা করা জরুরি।
৩. মসজিদে আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদতের গুরুত্ব
আল্লাহ তাআলা বলেন—
فِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ يُسَبِّحُ لَهُ فِيهَا بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ رِجَالٌ لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُ
‘সেসব ঘরে, যেগুলোকে সমুন্নত করতে এবং যেগুলোতে তার নাম স্মরণ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে সকাল-সন্ধ্যায় তার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এমন লোকেরা, যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ, নামাজ কায়েম ও জাকাত প্রদান থেকে গাফেল করে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।’ (সুরা আন-নুর: আয়াত ৩৬–৩৭)
এ আয়াতগুলোতে মসজিদে আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদতের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। তাই মসজিদের ভেতরের পরিবেশকে ইবাদতের উপযোগী রাখা এবং সেখানে অপ্রয়োজনীয় দুনিয়াবি কথাবার্তা ও কাজকর্ম থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকা উচিত।
মসজিদে দুনিয়াবি কথাবার্তা সম্পর্কে হাদিস
রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদকে ইবাদত, জিকির ও দ্বীনি শিক্ষার স্থান হিসেবে গড়ে তুলেছেন। এ কারণে মসজিদের মর্যাদা রক্ষা এবং এর পরিবেশকে অনুপযুক্ত ব্যবহার থেকে মুক্ত রাখার বিষয়ে ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ তাআলার ইবাদত ও পবিত্রতা বজায় রাখা ছাড়া অন্য কোনো কাজের জন্য মসজিদ নির্মিত হয়নি। বিষয়টি হাদিসের বর্ণনায় উঠে এসেছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
مَنْ سَمِعَ رَجُلًا يَنْشُدُ ضَالَّةً فِي الْمَسْجِدِ فَلْيَقُلْ: لَا رَدَّهَا اللَّهُ عَلَيْكَ، فَإِنَّ الْمَسَاجِدَ لَمْ تُبْنَ لِهَذَا
‘যে ব্যক্তি কাউকে মসজিদে হারানো বস্তু খুঁজে পাওয়ার ঘোষণা দিতে শুনবে, সে যেন বলে, ‘আল্লাহ যেন তোমাকে তা ফিরিয়ে না দেন।’ কেননা, মসজিদ এ কাজের জন্য নির্মিত হয়নি।’ (মুসলিম ৫৬৮)
মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই মসজিদে দুনিয়াবী কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা উপকারী হলেও তা পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষার খাতিরে সামাজিক কাজ থেকেও বিরত থাকা জরুরি। দুনিয়াবী কাজে মসজিদ ব্যবহৃত না হলে মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মসজিদের মর্যাদা রক্ষা করার, আমানতের যথাযথ হেফাজত করার এবং শরিয়তের বিধান অনুযায়ী জনকল্যাণমূলক কাজ পরিচালনা করার তৌফিক দান করুন। আমিন।