আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ (১৪ অক্টোবর)। ২০২৪ সালের এদিনে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধসহ একে একে গুম-খুনের অভিযোগে করা মামলাগুলোর বিচার শুরু হয়। বর্তমানে দুই ট্রাইব্যুনালে চলমান ৭০ মামলায় আসামির তালিকায় রয়েছে ৪৮৮ নাম।
এছাড়া রায় এসেছে সাতটি মামলার। দণ্ডিতের এ তালিকায় রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও দলটির শীর্ষ নেতারা।
প্রসিকিউশন জানায়, পুনর্গঠনের পর দুই বছরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বেশ দ্রুত গতিতেই বিচারকাজ এগোচ্ছে। এখানে চিফ প্রসিকিউটরসহ বর্তমানে ২০ জন প্রসিকিউটর কাজ করছেন। গত দুই বছরে করা বহু মামলাই ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে কিছু রয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণ বা যুক্তিতর্ক পর্যায়ে। এছাড়া আরও রায়ের অপেক্ষায় আরও একটি মামলা।
তথ্য অনুযায়ী, দুই ট্রাইব্যুনালে মিসকেস বা বিবিধ ও বিডি মামলা মিলিয়ে সংখ্যা ৭০টি। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১ এ ৪৩টি এবং ট্রাইব্যুনাল-২ এ ২৭টি রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারাধীন ১২টি বিডি মামলায় আসামি সংখ্যা ১২০। তাদের ৩২ জন গ্রেপ্তার থাকলেও পলাতক রয়েছেন ৮৮ আসামি। একই ট্রাইব্যুনালের ৩১টি বিবিধ মামলায় আসামির তালিকায় ১৩৩ জনের নাম রয়েছে, যাদের ৭৩ জন গ্রেপ্তার ও ৫৯ জন পলাতক। এর মধ্যে একজনের মৃত্যুও হয়েছে।
এছাড়া ট্রাইব্যুনাল-২ এর ১৪টি বিডি মামলায় মোট আসামি সংখ্যা ২০৮। এর মধ্যে ১৫৬ জনই পলাতক। বাকিরা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এ ট্রাইব্যুনালে ১৩টি বিবিধ মামলায় ২৭ আসামির ২৬ জনই গ্রেপ্তার। পলাতক আছেন মাত্র একজন।
এ পর্যন্ত সাতটি বিডি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২। এসব মামলায় মোট দণ্ডিত সংখ্যা ৬৮। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ড ২৩, যাবজ্জীবন ১১, বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ৩৩ ও ক্ষমা ১। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। সবমিলিয়ে দুই বছরের পূর্তি উপলক্ষ্যে আজ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে প্রসিকিউশন।
