আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের দফায় দফায় ধস্তাধস্তির জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও সার্বিক শৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমস্ত বিভাগের সশরীরে পঠনপাঠন বন্ধ করে অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত নিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শনিবার রেজিস্ট্রারের দপ্তর থেকে জারি করা এক নির্দেশিকায় এই পদক্ষেপের কথা জানানো হয়।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার সকালে, যখন আন্দোলনরত পড়ুয়াদের খাটানো তাঁবু সরাতে উদ্যোগী হন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীরা। তা ঘিরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা। দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তুমুল হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি। বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উভয় পক্ষ একে অপরকে নিরস্ত করার চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ বা 'জেএমআইএসইউ' (JMISU) নির্বাচন পুনর্বহালের দাবিতে গত ১২ অক্টোবর থেকেই লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে আসছেন পড়ুয়ারা। ২০০৬ সালে ক্যাম্পাসে হিংসা ও বিশৃঙ্খলার কারণে এই ছাত্র সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্বাচন ফের চালু করার দাবিতেই নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়।
এর পাশাপাশি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের দেওয়ালে বিভিন্ন বিতর্কিত পোস্টার ও স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক পারদও চড়েছে। বিশেষ করে 'ফ্রি শারজিল ইমাম', 'ফ্রি কাশ্মীর' এবং 'আরএসএস গো ব্যাক' লেখা স্লোগান সামনে আসার পর তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। শুক্রবার রাতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সমর্থনে ক্যাম্পাসে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে কিছুক্ষণের জন্য আটক হন কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ। যদিও তিনি বিতর্কিত স্লোগান থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে স্পষ্ট জানান যে কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তবে ছাত্রদের দাবির পাশে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, এই স্লোগান নিয়ে রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদবদের মতো বিরোধী নেতাদের নীরবতা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং।
ক্যাম্পাসের এই সংঘাতময় ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই পড়ুয়াদের নিরাপত্তার স্বার্থে সমস্ত অফলাইন ক্লাস স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মহম্মদ মাহতাব আলম রিজভি নির্দেশিকায় জানিয়েছেন, প্রতিটি অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপকদের অবিলম্বে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে অশান্তির আঁচ পঠনপাঠনে না পড়ে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কবে নাগাদ ফের স্বাভাবিক অফলাইন ক্লাস শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
