নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকির হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন আসামি আশিকুর রহমান প্রাঙ্গণের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শুনানি শেষে নেত্রকোণার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মো. আলিমুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
এর আগে প্রাঙ্গণকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালতের পরিদর্শক-২ মো. আব্দুল মমিন রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে দুর্গাপুর পৌর শহরের শহীদ মিনার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রাঙ্গণকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-১৪। তিনি পৌর শহরের বাগিচাপাড়া এলাকার কাচারির মোড়ের বাসিন্দা মো. শাহিন মিয়ার ছেলে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, প্রাঙ্গণ এলাকায় ‘শুটার শামিম’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির ভাগ্নে। শামিমের বিরুদ্ধে থানায় অন্তত তিনটি হত্যা মামলাসহ ৩০টির বেশি মামলা রয়েছে।
এসআরবি-১৪ সূত্র জানায়, সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অনুরোধে সদর কোম্পানির একটি দল বিশেষ অভিযান চালায়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় শহীদ মিনার এলাকা থেকে প্রাঙ্গণকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এসআরবি-১৪, ময়মনসিংহের মিডিয়া বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসান বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে সবকিছু বলা যাচ্ছে না। তবে এতটুকু বলতে পারি, ঘটনার প্রযুক্তিগত দিক বিবেচনা করে গ্রেপ্তার প্রাঙ্গণকে এই ঘটনার অন্যতম আসামি হিসেবে ধরে নেয়া যায়।’
গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজারের তেলঞ্জিয়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক আলিফ। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোণা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন ১৬ অক্টোবর আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ২৩।
এ মামলায় গত ১৮ অক্টোবর অপূর্ব (২২) নামে সন্দেহভাজন আরেক তরুণকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি চার দিনের পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন।
এ নিয়ে সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হলো।
