রক্তক্ষরণ যেন থামছেই না ভারতীয় শেয়ারবাজারে। সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে ভালুকের আঁচড়ে ক্ষতবিক্ষত সেনসেক্স ও নিফটি। সোমবার বাজার খোলার পর আশা জাগিয়েও ব্যর্থ হয় সেনসেক্স। দিনের একটা সময়ে প্রায় ১০০০ পয়েন্ট পড়ে যায় বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ। তেলের চড়া দাম ও বন্ডের ক্রমবর্ধমান ইল্ডের (সুদের হার) জেরে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়েছেন বাজার থেকে। এর ফলে দ্রুত পতনের মুখে পড়ে বেঞ্চমার্ক সূচক সেনসেক্স ও নিফটি। দিনের শেষে প্রায় ৫৪৮ পয়েন্ট কমে ৭১,৯২৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে সেনসেক্স। অন্যদিকে, নিফটি ৫০ প্রায় ১৫৭ পয়েন্ট হারিয়ে দিনের লেনদেন শেষ করেছে ২২,৩৬৩ পয়েন্টে।
যদিও এ দিন লেনদেনের শুরুতে সেনসেক্স ৪০০ পয়েন্টেরও বেশি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু সেই ইতিবাচক প্রবণতা বেশি ক্ষণ স্থায়ী হয়নি। শুরুর সমস্ত লাভ খুইয়ে শেষপর্যন্ত বড় পতনের মুখে পড়ে বিএসই-এর সূচক। ডলারের সাপেক্ষে ৯৮ পয়সা বেড়ে ৯৫.৭৫-এ পৌঁছোয় রুপির দর, যা গত ছ’মাসের মধ্যে ভারতীয় মুদ্রার সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। টাকার দামে উত্থানের জেরে শেয়ারবাজারও দিনের শুরুতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে লেনদেন শুরু করে। পরে তা নিম্নমুখী হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সুদ বাড়লে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিল্প ও শেয়ারবাজারে। এ ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হয়নি। রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)-এর রেপো রেট বাড়ানোর পর বন্ডের বাজারে বিক্রির চাপ আরও বেড়েছে।
নিফটির লোকসানকারী শেয়ারগুলির তালিকার শীর্ষে টেক মাহিন্দ্রা, আইটিসি, এলঅ্যান্ডটি, হিন্দালকো এবং এইচইউএল। অন্যদিকে, ডক্টর রেড্ডি’স ল্যাবরেটরিজ়, বাজাজ অটো, ভারত ইলেকট্রনিক্স, বিএসই লিমিটেড এবং টাটা মোটরসের যাত্রীবাহী গাড়ির স্টক লাভের মুখ দেখছে। নিফটি মিডিয়া সূচক ৪.৬ শতাংশ বেড়ে সর্বাধিক লাভ করে। গাড়ি নির্মাণকারী সংস্থাগুলির সূচক ০.৯ শতাংশ, রিয়েলটি সূচক ১ শতাংশ এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থা সূচক ০.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। বিপরীতে, নিফটি তথ্যপ্রযুক্তি, ধাতু, বেসরকারি ব্যাঙ্ক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং এফএমসিজি সূচক ০.৪ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
বাজারের অন্যান্য সূচকের মধ্যে নিফটি মিডক্যাপ অপরিবর্তিত থাকলেও স্মলক্যাপ সূচক ১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ, প্রধান সূচকগুলিতে পতন দেখা গেলেও ছোট সংস্থার একাধিক শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বজায় ছিল।
